admin ২৯ জুলাই ২০২৫ , ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কাজী আশরাফুল হাসান : টানা বৃষ্টির কারণে আবারও জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে নোয়াখালী জেলা শহর ও পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও বাসাবাড়ি। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন অফিস-আদালতের কর্মজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা।

জানা গেছে, সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মাইজদী আবহাওয়া অফিসে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। একটানা তিন ঘণ্টার বৃষ্টির পর থেমে থেমে আরও বৃষ্টিপাত হওয়ায় শহরের প্রধান সড়কগুলো হাঁটু পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। বিশেষ করে মাইজদী স্টেডিয়াম এলাকা, ইসলামিয়া সড়ক, টাউন হল মোড়, পৌর বাজার, জেলা আদালত চত্বর, রেকর্ড রুমসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
পৌরবাসীরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং খাল-জলাশয় দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণেই শহরের এই স্থায়ী জলাবদ্ধতা। আগের বৃষ্টির পানি না নামতেই নতুন করে বৃষ্টিপাতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
জেলা জজ আদালতে কাজ করতে আসা রেজাউল করিম বলেন, “অল্প বৃষ্টি হলেই কোর্টের সামনের রাস্তায় পানি জমে যায়। সোমবার তো হাঁটুসমান পানি ছিল। ড্রেন উপচে পড়ায় পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে গেছে। হেঁটে গেলে চর্মরোগ হতে পারে, অথচ রিকশাও মেলে না।”
একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে পৌর এলাকার ব্যবসায়ী মো. আলম হোসেন বলেন, “হাসপাতাল সড়ক দিয়ে রোগী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চলাচল করেন। অথচ এই রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী। আমরা দ্রুত সংস্কার ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।”
জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সোমবার ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী তিন-চার দিন থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি খাল দখলমুক্ত করেছি। খালের ওপর থাকা অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
পৌরবাসীদের প্রত্যাশা, কেবল অভিযানে থেমে না থেকে একটি টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে প্রশাসন।

















