অপরাধ

শত অভিযোগের পরও বহাল সচিব ‘তারা মিয়া’, তার খুঁটির জোর কোথায়? (পর্ব -২)

  admin ৩১ জুলাই ২০২৫ , ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

স্টাফ রিপোর্টার : জন্ম নিবন্ধন এর সরকারি নির্ধারিত ফি ৫০ টাকা হলেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন সচিব তারা মিয়া। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৩ নং ওয়ার্ড সচিবের বিরুদ্ধে রয়েছে এমন ডজনখানেক অভিযোগ। এ সকল অভিযোগ নিয়ে জনতার আলো’তে একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ সহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও আজ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তারা মিয়া বছরের পর বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। জন্মনিবন্ধনের মতো একটি মৌলিক অধিকার পেতে এখন ঘুষ দিতে হয় কয়েকগুণ। কেউ টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে দিনের পর দিন ঘুরানো হয়। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জন্মনিবন্ধনের ফি মাত্র ৫০ টাকা। তবে তাকে দিতে হচ্ছে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত।

জনতার আলো প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন শতাধিক মানুষ জন্মনিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে আসে এইখানে। এদের বেশিরভাগই দরিদ্র, খেটে খাওয়া মানুষ। কিন্তু বাধ্য হয়ে সচিবের চেম্বারে কিংবা তার আশপাশে থাকা দালালের মাধ্যমে গচ্চা দিতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। একাধিক ভুক্তভোগী জানান, “আমরা নিজের জন্মনিবন্ধন করতে এসে বুঝতে পারি, এটা যেন এখন একধরনের ব্যবসা। সচিব চাইলে সরকারি ফ্রি ৫০ টাকার বিনিময় সে দ্রুত করে দিতে পারে, কিন্তু তা দেন না তিনি। আর কেউ টাকা না দিতে চাইলে সচিব বা তার লোকজন বলেন, কাগজপত্র ঠিক নেই।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “একটা নিরীহ মানুষ যখন জন্মনিবন্ধনের জন্য ২ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়, তখন বুঝতে হবে, প্রশাসনের কোথাও একটা বড় গলদ আছে। আমরা এতবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু সচিব এখনো বহাল তবিয়তে বসে আছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

একজন নারী ভুক্তভোগী বলেন, “আমি ছেলের স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য দ্রুত জন্মনিবন্ধন দরকার ছিল। কিন্তু সচিব ১,৫০০ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ১০ দিনেও কাজ হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, শুধু জন্মনিবন্ধন নয়, ওয়ার্ড অফিসের অন্যান্য সেবা গ্রহণেও সাধারণ মানুষকে নিয়মিতভাবে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। দালাল চক্র ও ওয়ার্ড সচিব একসাথে মিলে তৈরি করেছে দুর্নীতির এক অজেয় দুর্গ।

এই বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এর সাথে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে, কবে নাগাদ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন কোনো নির্দিষ্ট সময় বা অঙ্গীকার পাওয়া যায়নি।

এদিকে এলাকাবাসী বলছে, “এটা শুধু একটি সচিবের দুর্নীতির বিষয় নয়, এটি একটি দুর্বল ও দায়িত্বহীন প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। সচিব তারা মিয়ার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকার পরেও কেন তাকে সরানো হচ্ছে না? তার পেছনে কারা আছে, সেই প্রশ্ন আজ এলাকাবাসীর মুখে মুখে।”

সাধারণ জনগণের প্রশ্ন, ‌‘একটা জন্মনিবন্ধনের জন্য যদি ঘুষ দিতে হয়, তাহলে এই দেশ কীভাবে এগোবে?’ এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি—সচিব তারা মিয়াকে দ্রুত অপসারণ করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক সিটি কর্পোরেশন।
ওয়ার্ড সচিবের দুর্নীতির বিষয়ে ধারাবাহিক কলম চলবে……

আরও খবর:

Sponsered content