admin ৪ আগস্ট ২০২৫ , ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : ৪ আগস্ট, বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি রক্তাক্ত ও বিভীষিকাময় দিন। সরকারবিরোধী আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র ক্যাডারদের মাঠে নামানো হয়। এই দিনটিকে বিরোধী রাজনৈতিক মহল আখ্যায়িত করেছে “গদি বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ দমন-পীড়নের দিন” হিসেবে।

পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয় ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদের হঠাৎ ঘোষণা—পরশু নয়, কালই হবে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’। তার এই ঘোষণার পরপরই দেশজুড়ে আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে ওঠে। এতে সংহতি জানায় সাবেক সেনা কর্মকর্তারাও।
সকাল থেকেই রাজধানীর প্রবেশপথ ও অলিগলিতে শুরু হয় ব্যাপক দমন-পীড়ন। বিভিন্ন জেলায়ও আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো হয় কঠোর হামলা। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা একযোগে অভিযান চালায়। এতে শতাধিক প্রাণহানি ঘটে বলে বেসরকারি বিভিন্ন সূত্রের দাবি। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার ১৪ পুলিশ সদস্যও বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে নিহত হন।
পরে হঠাৎ করেই সরকারের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয় এবং পরদিন থেকে তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
একই রাতে সংবাদ সম্মেলন করে সাবেক সেনা কর্মকর্তারা সেনাবাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে না দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। সেনাবাহিনী জানিয়ে দেয়, তারা জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেবে না। এতে সরকারের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
এই দিন থেকেই শুরু হয় স্বৈরশাসনের পতনের ঘণ্টা। ছাত্র-জনতা, সাবেক সেনা কর্মকর্তারা এবং সাধারণ মানুষ—সবাই এক কণ্ঠে আওয়াজ তোলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য।

















