admin ১৫ আগস্ট ২০২৫ , ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কাজী আশরাফুল হাসান : সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ১ নাম্বার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা ও সভাপতি প্রার্থী মুন্না সরকারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং কিশোর গ্যাং লালন-পালনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মুন্না সরকার ভদ্রঘাট এর স্থানীয় বাসিন্দা না হয়েও গত কয়েক বছর ধরে এলাকায় এক ধরনের সন্ত্রাসের রামরাজ্য কায়েম করছেন। তার সঙ্গে কারো মতবিরোধ হলে তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হয় অপপ্রচার। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে ‘আওয়ামী দোসর’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করা তার নেশায় পরিণত হয়েছে।
মুন্নার দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তার কথাবার্তা ও আচরণ উগ্রপন্থার ইঙ্গিত বহন করে। ছাত্রদলের বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ সমাবেশে যেখানে অন্যান্য নেতাকর্মীর হাতে থাকে দলীয় বা জাতীয় পতাকা, সেখানে তার হাতে দেখা যায় লাঠি।

শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে হুমকি-ধামকি দেন, এবং নিজের হাতে ‘সাজা’ কার্যকর করেন। অপহরণ, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তার নিজ মুখেই স্বীকারোক্তি দেন। এছাড়া এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান হিসেবেও তার নাম রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।
ভদ্রঘাট ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছি। তার প্রভাব এতটাই বেশি যে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না।

এদিকে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এ ধরনের নেতারা শুধু দলের ভাবমূর্তিই নষ্ট করছেন না, বরং যুবসমাজকে ভুল পথে ঠেলে দিচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
একজন ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সবুজের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের বিষয় তিনি অবগত নয়। মাঝেমধ্যে আমার কাছে আসে এভাবেই তাকে আমি চিনি। কিন্তু, বেশিরভাগ সময় সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সবুজের সাথেই তার বিশেষ কিছু মুহূর্তের ছবিও পাওয়া যায় মুন্না সরকারের ফেসবুক আইডিতে। তাহলে কি মুন্নার ক্ষমতার একমাত্র উৎসই তিনি কিনা এমন প্রশ্ন এখন জনমনে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার রাজনৈতিক পরিচয় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা, এবং ছাত্রদলের প্রভাবশালী এক নেতার ক্ষমতা বলে অনেক সময় এসব মামলায় অগ্রগতি হচ্ছে না।

ছাত্রদল নেতা মুন্না সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কামারখন্দ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, অপরাধীরা যে দলেরই হোক না কেন, আর যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তদন্ত করে দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানক ব্যবস্থা নেয়া হবে।।
বাজার ভদ্রঘাট এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সন্ত্রাস-গ্যাং সংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সচেতন মহল।
ছাত্রদল নেতা ‘মুন্না’ সরকারের রামরাজত্বের আরো ফিরিস্তি নিয়ে শিগগিরি (দ্বিতীয় পর্ব) আসছে…..











