ইসলাম

প্রচণ্ড গরম আর যানজটে থাকা যাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত গড়লো কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা

  admin ১৯ আগস্ট ২০২৫ , ১২:৩৯ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

গত শুক্রবার ১৫ আগস্ট জুমআর নামাজের পর গাজীপুরের মাওনা থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শত শত যাত্রী প্রচণ্ড গরমে গাড়িতে আটকে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। গাড়িতে বাতানুকূল ব্যবস্থা না থাকায় এবং আশপাশে খাবার পানি না পেয়ে অনেকেই অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন।

ঠিক এমনই এক সময়, মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এলাকার একটি কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা। আশপাশের মাদ্রাসা থেকে শতাধিক ছাত্র প্রায় তিন থেকে চার মাইল হেঁটে যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের কাছে গিয়ে পানি পৌঁছে দেন। কেউ বোতলে, কেউ কলসিতে করে গ্লাস দিয়ে পানি নিয়ে একেকটি গাড়ির কাছে গিয়ে যাত্রীদের হাতে পৌঁছে দেন সেই অমূল্য সাহায্য।

এই ঘটনা প্রথমে একজন প্রত্যক্ষদর্শী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের এই উদারতা, আদব ও মানবিক শিক্ষার ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনেকেই মন্তব্য করেন, “এটাই দ্বীনি শিক্ষার ফল, যেখানে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আসল ইবাদত।

মানবিকতার নতুন নাম—কওমি ছাত্র

ঘটনাস্থলে থাকা যাত্রীদের অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। একজন যাত্রী বলেন, “আমরা তো পানি কিনে খেতে পারতাম না, চারপাশে দোকান নেই, ভীষণ গরমে আমরা খুব কষ্টে ছিলাম। হঠাৎ কিছু ছেলে এসে পানি দিচ্ছে—ভাবতেই পারিনি! আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।

এই ছোট্ট উদ্যোগটি সামাজিক মাধ্যমে যে আলোড়ন তুলেছে, তা কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ধর্মীয় শিক্ষা শুধু নামাজ-রোজায় সীমাবদ্ধ নয়, তা যে মানুষের কল্যাণেও ব্যবহৃত হয়, এই ঘটনা তারই জলন্ত উদাহরণ।

সমাপ্তি নয়, শুরুর বার্তা

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন—এই ধরনের উদাহরণ সমাজে আরও ছড়িয়ে পড়বে। শুধু কওমি মাদ্রাসাই নয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই উঠে আসবে এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম।

আরও খবর:

Sponsered content