admin ১৯ আগস্ট ২০২৫ , ১:৪৯ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কাজী আশরাফুল হাসান : সিরাজগঞ্জে অপহৃত ও নির্যাতিত রুবেল তালুকদার সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দুইদিন যাবত বাড়ি ফিরলেও, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরবতা উদ্বেগজনক।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের নওদা শালুয়া গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক রুবেল তালুকদারকে গত ১৭ আগস্ট রবিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে নির্যাতন করার ঘটনায় এলাকায় এক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে সিরাজগঞ্জের ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা মুন্না সরকার, বিপ্লব কুমার ঘোষ, মুন্নার মামা যুবদল নেতা মিজানুর, আরেক মামা অপু, মান্নান সরকার ও হেদুসহ তাদের বাহিনী নিয়ে বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে তাদের নাম উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করা হলেও এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এমনকি তাকে অপহরণ করার সময়কার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হলেও পদক্ষেপ নিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রুবেল তালুকদারকে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ওই রাতে আধমরা অবস্থায় তার বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অপহরণকারী সন্ত্রাসীরা এখনো এলাকায় অবাধে ঘোরাফেরা করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা ক্ষুব্ধ ও হতবাক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর ঘটনা ও সাংবাদিককে অপহরণ করে নির্যাতনের কথাটি সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে সারাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, এমন অবস্থাতেও সিরাজগঞ্জ জেলা ও উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে করে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়েছে। এছাড়াও, বিএনপি’র মত একটি সুনামধন্য দলেরও ব্যাপক বদনাম বয়ে আনছে এ সকল সন্ত্রাসীরা।
সাংবাদিক রুবেল তালুকদার বর্তমানে অসুস্থ মৃত প্রায় অবস্থায় বাড়িতে বিছানায় পড়ে আছে, কিন্তু অপরাধীরা আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে, যা স্থানীয় মানুষের মাঝে ভীতি ও অনাস্থার সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করেও গ্রেফতার না করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের আস্থা হ্রাস পাচ্ছে।
মুন্না সরকারের দুই মামা মিজানুর আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলে ইন্টারনেট ও ডিস লাইনের একক ব্যবসা করেছে, বর্তমান আমলে এসেও তার এই সকল ব্যবসা ও তাদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য হঠাৎ করে যুবদলের নেতা বনে গেছেন তারা। আবার মিজানুর নাকি যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রত্যাশী। মামা মিজানুর, অপু ও ভাগিনা মুন্না সরকার মিলে ভদ্রঘাট এলাকায় একটি পারিবারিক ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তার ওপর নেমে আসে বর্বর নির্যাতনের পাহাড়। যার জ্বলন্ত প্রমাণ রুবেল তালুকদারকে অপহরণ ও অমানবিক নির্যাতন।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলার কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্ক ও হতাশার মধ্যে রয়েছে। তারা আশা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এলাকা থেকে সন্ত্রাস ও নিপীড়ন বন্ধ করা হবে।

















