Uncategorized

মান্দায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বয়স্ক ও গর্ভবতী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ

  admin ২০ আগস্ট ২০২৫ , ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

Made with LogoLicious Add Your Logo App

মাহবুবুজ্জামান সেতু : নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্কভাতা ও গর্ভবতী ভাতা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য শান্তনা রাণীর দিকে।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত তিন বছর ধরে ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের ভাতাভোগী মো. হবিবর খাঁনের নামে বরাদ্দকৃত বয়স্কভাতা নিয়মিতভাবে আত্মসাৎ করে আসছেন এই ইউপি সদস্য। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী হবিবর খাঁন অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্য শান্তনা রাণী (স্বামী- নিমাই, গ্রাম- রুয়াই) নিজের মোবাইল নম্বর ০১৭৭৪৩০৫১৪৩ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তার নামে বরাদ্দ পাওয়া বয়স্কভাতার টাকা নগদ অ্যাকাউন্টে তুলে নিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও তিনি টাকা ফেরত দেননি, বরং অস্বীকার করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন,“আমি একজন অসহায় বয়স্ক মানুষ। আমার ভাতার টাকা কেড়ে নেওয়া মানে আমার বেঁচে থাকার পথ বন্ধ করে দেওয়া। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই—আমার টাকা যেন ফেরত পাই এবং এমন প্রতারণা আর কেউ যেন না করতে পারে।” শুধু বয়স্কভাতাই নয়, ভাতার তালিকায় রয়েছে ভুয়া গর্ভবতী মায়ের নামও।

২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনের স্বাক্ষরিত ১৪ মে ২০২৩ সালের একটি তালিকা থেকে জানা গেছে, শান্তনা রাণী তার অবিবাহিত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে যুথী রাণীকে গর্ভবতী দেখিয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের জন্য বরাদ্দ ভাতা উত্তোলন করে আসছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শান্তনা রাণী বলেন,“আমি ভুল করে এসব করেছি। ভবিষ্যতে আর করব না। হবিবরের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তার সব টাকা ফেরত দেব।”
তবে তার মেয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার মেয়ে যুথী রাণী অবিবাহিত। গর্ভবতী ভাতায় স্বামীর নামের জায়গায় যে ‘চন্দ্র সাহা’ দেওয়া হয়েছে, সে নামে বাস্তবে কেউ নেই। সব তথ্যই মিথ্যা।

কাঞ্চনপুর গ্রামের অনিল চন্দ্র প্রামানিকসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্য শান্তনা রাণী বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার নাম করে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। কিন্তু আজও কেউ ভাতা পাননি।

তেঁতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস. এম. মোখলেছুর রহমান কামরুল বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২২ জুলাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন ৩ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আ. জলিল ও মো. আ. কাদের, সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. লাইলি খাতুন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসাইন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও খবর:

Sponsered content