admin ২৭ আগস্ট ২০২৫ , ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করেছিল ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম কার্যক্রম। শুরুতে এই উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল, এবং বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যদের তথ্য জমা দেওয়ার ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপরাধ দমন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছিল। বিশেষ করে রাজধানীতে গোপনে অবস্থান নেওয়া অপরাধী চক্র ও সন্দেহভাজনদের শনাক্তকরণে এ কার্যক্রম বড় ভূমিকা রাখে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতিতে, রাজধানীতে ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়, ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে ভাড়া বাসায় উঠে অবস্থান নিচ্ছে। শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা পালিয়ে গেলেও, নিম্ন পর্যায়ের কর্মীরা রাজধানীর ভেতরেই ছড়িয়ে পড়ে, বিভিন্ন এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছে।
এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও নগরবাসীর আশঙ্কা, বিভিন্ন এলাকায় তথ্য ছাড়া নতুন নতুন বাসা ভাড়া নেওয়া এ সকল ভাড়াটিয়ারা গোপনে সংগঠিত হয়ে রাজধানীতে যে কোনো সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম কার্যক্রমে নতুন করে জোর দিলে এসব সন্ত্রাসী ও নাশকতাকারীদের সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
শৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারাও মনে করেন, রাজধানীর প্রতিটি থানা ও বিট পুলিশিংয়ের আওতায় পুনরায় ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম সংগ্রহ ও যাচাই করলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে। বাড়িওয়ালাদেরও এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত এই কার্যক্রমকে পুনরুজ্জীবিত করে নগরজীবনে নিরাপত্তার বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করবে।
নতুন করে আবারও ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম কার্যক্রমে নজরদারি জোরদার করলে, রাজধানীতে গোপনে অবস্থান নেওয়া অপরাধচক্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা সহজ হবে।

















