admin ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর যেন পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন এক গণআন্দোলনের ঢেউ উঠেছে। একের পর এক দেশ এখন জনবিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মুহূর্ত
বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ জনতা যখন রাজপথে নামে, তখন আন্দোলনের ঢেউ আকারে বিস্ফোরিত হয়। ছাত্র-জনতার মিলিত শক্তির কাছে রাষ্ট্রযন্ত্র অসহায় হয়ে পড়ে। শেষপর্যন্ত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে হেলিকপ্টারের চড়ে পালাতে বাধ্য হন। এই ঘটনাকে অনেকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশের আগেই শ্রীলঙ্কা দেখেছে একই ধরনের গণজাগরণ। অর্থনৈতিক সংকট আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ জনগণ রাস্তায় নামে, রাষ্ট্রীয় ভবনে ঢুকে পড়ে এবং শাসকগোষ্ঠীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। রাজধানী কলম্বোতে জনস্রোত যেন সরকারের সকল ক্ষমতাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
নেপালে হেলিকপ্টারে পালানো সরকার
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার আন্দোলন নেপালের জনগণকেও নাড়িয়ে দেয়। সেখানেও রাজপথে নামে হাজার হাজার মানুষ। চরম চাপের মুখে নেপালের সরকারকে হেলিকপ্টারে দেশত্যাগ করতে হয়। নাটকীয়ভাবে কয়েকজন মন্ত্রী শেষ মুহূর্তে হেলিকপ্টারের রশি ধরে কোনোরকমে প্রাণে বেঁচে যান—যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়।
এবার ভারতের রাজপথেও আন্দোলনের আগুন
বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের অভিজ্ঞতা দেখে এবার আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে ভারতে। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে জনতা সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। প্রতিদিনই বিক্ষোভ-মিছিল-অবরোধে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বিভিন্ন রাজপথ। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলছে স্লোগান, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ। এক অঙ্গরাজ্য থেকে আরেক অঙ্গরাজ্যে আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত।
দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে
বাংলাদেশ থেকে শুরু হওয়া গণআন্দোলনের এ ঢেউ ইতোমধ্যেই শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভারতকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে। জনগণের এই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, যখন জনতার শক্তি জেগে ওঠে, তখন কোনো স্বৈরাচারই টিকে থাকতে পারে না।

















