জাতীয়

রাজধানীর পল্লবীর সবুজ বাংলা সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গ্যাস বিহীন ৫দিন, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

  admin ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১:১৩ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রান্ত পারভেজ : রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকার সবুজ বাংলা, আদর্শ নগর ও ৫৪ প্লটের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই চরম গ্যাস সংকটে ভুগছেন। বিশেষ করে বৃষ্টির মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ভূগানতিতে পড়তে হয় এসব এলাকার মানুষদের। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব এলাকার গ্যাস লাইনে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে রান্নার চুলায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দিনের পর দিন গ্যাস না থাকায় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমান পাঁচ দিন ধরে গ্যাস লাইনে পানি ঢুকে যাওয়ার কারণে একেবারেই জোড়া জ্বলছে না তাদের। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এইসব এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবার বৃষ্টির পর গ্যাস লাইনের পানি বের না করা পর্যন্ত রান্না করা যায় না। অনেক সময় পানি বের না করলে এক সপ্তাহেও চুলা জ্বলে না, পরিবারগুলোকে না খেয়ে থাকতে হয় অথবা বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয়। কেউবা আবার লাকড়ির চুলা দিয়ে রান্না করেন, আবার কেউ সিলিন্ডার গ্যাস অথবা কারেন্টের চুলার উপর নির্ভর করতে হয়। অথচ এ সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

সবুজ বাংলার বাসিন্দা বাসিন্দা শাহীন আলম বলেন, “সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের গ্যাস লাইন বন্ধ হয়ে যায়। তখন লাইন থেকে পানি বের করতে মিস্ত্রি ডাকতে হয়। প্রতিটি চুলার লাইন থেকে পানি বের করতে হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। অথচ আমরা নিয়মিত বিল দিচ্ছি। এটি একেবারেই অমানবিক।

আদর্শনগরের গৃহিণী রুবিনা আক্তার বলেন, “সন্তানদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়। সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে নাস্তা বানাতে পারি না। আবার ইদানিং বৃষ্টির কারণে গত পাঁচ দিন ধরে চুলায় গ্যাস না থাকায় বাইরের খাবার কিনতে হয়। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সমস্যা সমাধানে একাধিকবার মিরপুরের জোনাল গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বরং ব্যক্তিগত উদ্যোগে মিস্ত্রি ডেকে লাইন ঠিক করার ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। রাতে ঠিক করাই পরদিন বৃষ্টি হলে আবারও মেইন লাইনে পানি ঢুকে চুলা জলে না। যেন এক অদ্ভুত সমস্যায় ভুগছি আমরা। কিন্তু বীর প্রতিমাসে আমাদেরকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই বৃষ্টির জেনে আমরা দশ দিনও গ্যাস পাইনি।

এ বিষয়ে মিরপুর জনের গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কেউই সুনির্দিষ্টভাবে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এমনকি কোথায় গেলে সমস্যার সমাধান মিলবে বলছেন না তারা।

এ বিষয়ে, তিতাস গ্যাসের কারওয়ান বাজার ইমারজেন্সি শাখায় যোগাযোগ করা হলে তারাও কোনো সমাধান দিতে পারেননি। বলছেন, হেড অফিস বরাবর অভিযোগ করলে হয়তো সমাধান মিলবে।

দুর্ভোগে পড়া বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

আরও খবর:

Sponsered content