admin ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কাজী আশরাফুল হাসান : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয়দানকারী বিপ্লব কুমার ঘোষ আবারো বিতর্কে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার হাতে মদের বোতল নিয়ে একাধিক ছবি ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসী বলছেন, বিপ্লব কুমার ঘোষ দীর্ঘদিন ধরেই নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়লেও এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দলীয় কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে সে ও তার সহযোগীরা।

এর আগে বিপ্লব ঘোষ ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক অপহরণ, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। জনতার আলোর সাংবাদিক রুবেল তালুকদারকে অপহরণের ঘটনায়ও তার নাম উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, ভদ্রঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মির্জা সামাদের নির্দেশে বিপ্লব ঘোষের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতা মুন্না সরকার, যুবদল নেতা মিজানুর, মান্নান সরকার, হেদুসহ কয়েকজন ওই অপহরণে জড়িত ছিলেন।
ঘটনার পর ছাত্রদল নেতা মুন্না সরকারকে বহিষ্কার করা হলেও অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো, বিপ্লব ঘোষ ও মির্জা সামাদের একাধিক আন্তরিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা থেকে স্থানীয়দের ধারণা—ঊর্ধ্বতন নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদেই এ গ্রুপটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালানো এই বিপ্লব কুমার ঘোষ গোপনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ রাখছেন সেরকম ছবিও হাতে এসেছে জনতার আলোর। এ সকল ছবিতেই প্রমাণিত হয় বিপ্লব কুমার ঘোষ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নাম ভাঙ্গিয়ে বিএনপিকে কলুষিত করছে। এবং আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির কিছু নেতারা জানিয়েছেন, বিপ্লব কুমার ঘোষ স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো পদে নেই। তিনি নিজেই নেতা পরিচয় দিয়ে অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছেন।
এলাকার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—দলের নাম ভাঙিয়ে মাদকসহ নানা অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলীয় নেতৃত্ব যদি নির্লিপ্ত থাকে, তবে এমন সন্ত্রাসীরা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

প্রশ্ন রয়েই গেলো: বিপ্লব ঘোষ ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রশাসন এবং দলীয় নেতৃত্ব কবে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে?

















