admin ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১:৫৫ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কাজী আশরাফুল হাসান : সিরাজগঞ্জ জেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অবসান ঘটেছে সম্প্রতি। জনতার আলো পত্রিকায় একের পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর গা ঢাকা দিয়েছেন ওইসব চিহ্নিত অপকর্মকারী চাঁদাবাজচক্র। ফলে, ভদ্রঘাট বাজারে এখন বিরাজ করছে স্বস্তি, নিরাপত্তা ও মুক্ত ব্যবসার পরিবেশ।

দীর্ঘদিনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা
ভদ্রঘাট বাজারের বহু ব্যবসায়ীর অভিযোগ ছিল, প্রতিদিন বা সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে তাদের দোকানে এসে চাঁদা আদায় করত একদল নেতাকর্মী। এই অপকর্মের নেতৃত্ব দিতেন ভদ্রঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মির্জা সামাদুল। তার সঙ্গে ছিলেন যুবদল নেতা মিজানুর রহমান, ছাত্রদল নেতা মুন্না সরকার, ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিপ্লব কুমার ঘোষ। তারা তাদের নিজস্ব একটি বাহিনী নিয়ে দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, “বিক্রি না হলেও আমাদের চাঁদার টাকা দিতে হতো। কখনো ধার করে, কখনো ঘর থেকে এনে টাকা পরিশোধ করতেই হতো। এটা যেন নিয়মিত কর হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

জনতার আলোর নির্ভীক রিপোর্টিং
জনতার আলো পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত সংবাদগুলোতে এসব অপকর্মের বিস্তারিত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণসহ প্রকাশ হলে এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। চাপে পড়ে এবং জনরোষের ভয়ে অভিযুক্ত চাঁদাবাজরা গা ঢাকা দেয়। বর্তমানে বাজারে কোনো চাঁদাবাজ দল দেখা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানদার বলেন, “এই এক মাস আমরা শান্তিতে আছি। কেউ টাকা চাইতে আসেনি। এমন পরিবেশ অনেক বছর পর পেলাম।

রুবেল তালুকদার অপহরণ: স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর আঘাত
চাঁদাবাজ চক্র যে কতটা বেপরোয়া ছিল, তা বোঝা যায় সাংবাদিক রুবেল তালুকদার অপহরণের ঘটনা থেকে। জনতার আলো পত্রিকায় সত্য প্রকাশ করায় তাকে ফিল্মি কায়দায় অপহরণ করে চক্রটি। যদিও পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রশাসনের তৎপরতায় তিনি উদ্ধার হন, কিন্তু এখনো অপহরণে জড়িতদের বেশিরভাগ গ্রেপ্তার হয়নি এবং দল থেকেও বহিষ্কৃত হয়নি।

ব্যবসায়ীদের কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা ও উদ্বেগ
বহু ব্যবসায়ী জনতার আলো পত্রিকাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, “যদি পত্রিকায় এসব প্রকাশ না হতো, তাহলে আমরা হয়তো এখনো ওই জুলুমের শিকার থাকতাম।” তবে, তাদের একটাই দাবি—এখনকার এই শান্তিপূর্ণ অবস্থা যেন স্থায়ী হয়। তারা প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, “যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো চাঁদাবাজ চক্র জন্ম না নিতে পারে এবং ব্যবসায়ীরা যেন নিরাপদে চাঁদাবিহীন ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে।
প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা
জনগণের প্রত্যাশা, এসব চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে। অন্যথায়, আবারও তারা সংগঠিত হয়ে নতুন রূপে ফিরে আসতে পারে।
ভদ্রঘাট ইউনিয়নে জনতার আলোর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এটি প্রমাণ করে, সাহসী ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা সমাজকে পরিবর্তন করতে পারে। তবে, প্রশাসনের সদিচ্ছা ও রাজনৈতিক সদাচরণ ছাড়া এই পরিবর্তন স্থায়ী হবে না। এখন সময়, সেই সদিচ্ছা প্রমাণের। না হলে আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষ থেকে বিমুখ হয়ে পড়বে এ সকল সন্ত্রাসীরা যে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এ সকল অপকর্ম করছে। তাই দলের ঊর্ধ্বতন নেতাকর্মীদের উচিত সকল সন্ত্রাসীদের দলে স্থান না দেয়া।

















