জাতীয়

নিউইয়র্কে আখতারের ওপর হামলা, ছুরি নিয়ে মবে গিয়েছিলেন সেই যুবলীগ নেতা মিজান!

  admin ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

নিউইয়র্কে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেছে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় মব সৃষ্টির অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। পরে জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর তিনি ‘জয় বাংলা’ বলে স্লোগান দেন। তার সঙ্গে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও এ সময় স্লোগান দেন।

আটক ওই ব্যক্তির নাম মিজানুর রহমান। তিনি যুবলীগের নেতা।

জানা গেছে, মিজানুরের বাড়ি সিলেটে। জ‍্যাকসন হাইটস থেকে নিউইয়র্ক পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় তাকে হাতকড়াও পরানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সুলাইমান হক জানান, বিএনপি-সমর্থিত এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, মিজানুর রহমান তাকে ছুরি দিয়ে মারতে এসেছেন। এরপর নিউইয়র্ক পুলিশ তাকে আটক করে।

এনওয়াইপিডি সূত্র বলছে, বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মিজানুর রহমানকে আদালতে পাঠানো হবে। আজ রাত তাকে হাজতে কাটাতে হবে।

এর আগে, প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সোমবার নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। কিছুটা বিলম্বে বিমানবন্দর থেকে বের হলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির; এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারাকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এবং কয়েকজন বিএনপির কর্মী তাদের নিরাপত্তা দিয়ে বের করার চেষ্টা করেন। এ সময় আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন কর্মী। তাসনীম জারাকেও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন তারা। প্রতিবাদে ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগান তোলেন আখতার। পরে পুলিশের সহযোগিতায় গাড়িযোগে বিমানবন্দর এলাকা ছাড়েন তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমানকে ডিম ছুড়তে দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী বিমানবন্দরের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, পরপর দুটি ডিম ছোড়া হয়। এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের পিঠে ডিমগুলো লাগে। তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে হেঁটে যান।

তিনি আরও বলেন, সবাই গাড়িতে ওঠার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন। তারা ‘জয় বাংলা’সহ অন্যান্য স্লোগান দেন। এ সময় নিউইয়র্ক পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।

এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর এই হামলার ঘটনার আগে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক কনস‍্যুলেটে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

মব সৃষ্ট এ ঘটনায় একাধিক ব‍্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে জানান ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এনসিপির প্রবাসী উইং ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স এ দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, সরকারি আমন্ত্রণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট সফরে অংশগ্রহণকারী জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আখতার হোসেন ও তাসনিম জারার ওপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থক সন্ত্রাসীরা ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনা শুধু রাজনৈতিক সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং রাষ্ট্রের কূটনৈতিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার উদাহরণ।

দলটির পক্ষ থেকে প্রশ্ন রেখে বলা হয়, যদি সরকারি সফরের অংশগ্রহণকারীরা ন্যূনতম নিরাপত্তা না পান, তবে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কনস্যুলেট ও দূতাবাসগুলোর অস্তিত্বের যৌক্তিকতা কোথায়? তারা কাদের স্বার্থে কাজ করছে, আর কেন এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না?

বাংলাদেশ সরকার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় সফররত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ উল্লেখ করে এ বিষয়ে অবিলম্বে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার সময় এনসিপির  সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও তাসনিম জারার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য সফরসঙ্গীরাও ছিলেন এবং তারাও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তোপের মুখে পড়েন। কিন্তু এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে মূলত এনসিপির দুই নেতাকে। জুলাই বিপ্লবের সময় যারা জীবনবাজি রেখে লড়েছিলেন, তাদের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হামলাকারীদের ক্ষোভ আজও থামেনি।

সবশেষে বলা হয়, আখতার হোসেনকে জুলাই আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালানো হয়। তিনি গণআন্দোলনের জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন। অথচ আজও সেই সংগ্রামের মূল্য দিতে হচ্ছে। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের চরম ব্যর্থতা।

বিদেশের মাটিতে আওয়ামী লীগের এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্যও হুমকিস্বরূপ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছি।

আরও খবর:

Sponsered content