admin ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : রাজধানীর মিরপুরজুড়ে দিন দিন বাড়ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দাপট। অলি-গলি থেকে শুরু করে মূল সড়কেও এ যানবাহনগুলোকে দেখা যায় দাপিয়ে বেড়াতে। একসময় স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের সহজ উপায় হিসেবে জনপ্রিয় হলেও বর্তমানে এগুলো স্থানীয়দের জন্য হয়ে উঠেছে আতঙ্ক ও বিরক্তির কারণ।

দুর্ঘটনা আর যানজটের নিত্যসঙ্গী
প্রতিদিনই ব্যাটারিচালিত এ অটোরিকশাগুলো জড়িয়ে পড়ছে দুর্ঘটনার সঙ্গে। চালকদের অধিকাংশের বয়স কম এবং ট্রাফিক নিয়ম সম্পর্কে তারা অজ্ঞ। ফলে সামান্য অসতর্কতায় ঘটছে প্রাণহানির ঝুঁকি। একই সঙ্গে সড়কে যত্রতত্র দাঁড়ানো ও প্রতিযোগিতামূলক চালনার কারণে দেখা দিচ্ছে তীব্র যানজট। যাত্রীদের ভাষায়, এ ‘বাংলা টেসলা’ এখন মিরপুরবাসীর জন্য গলার কাঁটা।
রাজনীতি থেকে গ্যারেজ ব্যবসা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুরের এসব অটোরিকশা গ্যারেজ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরও গ্যারেজগুলো এখনো দলীয় প্রভাবমুক্ত হতে পারেনি। শুধু হাতবদল করে একইভাবে পরিচালিত হচ্ছে এ ব্যবসা। সম্প্রতি ঢাকার বাইরে থেকে পালিয়ে আসা বিভিন্ন নেতাকর্মীও আশ্রয় নিচ্ছে এসব গ্যারেজে। এ সকল গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। এরা অন্যায় কাজ করলে কেউ প্রতিবাদ করলে দলবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা করেও বসেন তারা। মূলত বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মামলা খেয়ে ঢাকায় পালিয়ে এসেছেন এ সকল নব্য রিকশাচালকরা।
অর্থের যোগান অস্থিরতায়
অভিযোগ রয়েছে, এসব গ্যারেজ থেকে প্রতিদিন বিপুল অর্থ উপার্জিত হচ্ছে। এর একটি অংশ নাকি ব্যয় হচ্ছে দেশকে অস্থিরতা সৃষ্টি ও হঠাৎ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল সংগঠনের কাজে। ফলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন, শুধু যানজট বা দুর্ঘটনার জন্য নয়, সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থেই এখনই এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া জরুরি। এবং প্রতিটি গ্যারেজে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে অভিযান চালানো প্রয়োজন। অভিযান চালালেই বেরিয়ে আসবে থালের বিড়াল।
জনগণের দাবি দ্রুত ব্যবস্থা
গণহারে এটি বন্ধ না করে, অসহায় আর প্রতিবন্ধীদের এটি চালানোর সুযোগ করে দিলে কমে আসবে কর্মসংস্থানের ঘাটতি। সড়কেও অনেক অংশে কমে আসবে এ সকল প্রাণঘাতী রিক্সার সংখ্যা। তবে নব্য আর বহিরাগতদের নজরদারি করতে হবে কঠোরভাবে।
মিরপুরবাসী বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে অন্য পরিবহন চলাচল একেবারে ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও আরও অবনতি ঘটবে। তাই প্রশাসনের প্রতি তাদের আহ্বান, এ যানবাহনের সংখ্যা ও গ্যারেজ কার্যক্রমের ওপর অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। অসহায় আর প্রতিবন্ধীদের এটি চালানোর সুযোগ করে দিলে কমে আসবে কর্মসংস্থানের ঘাটতি। সড়কেও অনেক অংশে কমে আসবে এ সকল প্রাণঘাতী রিক্সার সংখ্যা।

















