admin ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গণপরিবহনে হিজড়াদের চাঁদাবাজি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ট্রাফিক সিগন্যাল কিংবা বাস, মিনিবাসে উঠলেই দেখা যায়, দল বেঁধে এসে যাত্রী ও চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছেন তারা। টাকা না দিলে প্রকাশ্যে গালিগালাজ, ধাক্কাধাক্কি এমনকি শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ভুক্তভোগী।

অভিযোগ শুধু রাস্তায় নয়, পাড়া-মহল্লার বাসাবাড়িতেও তাদের দৌরাত্ম বেড়েছে। নতুন কোনো শিশু জন্ম নিলেই কয়েকজন হিজড়া দলবেঁধে বাড়িতে হাজির হয়। মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়, আর পরিবার তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানাভাবে অপমান ও হয়রানির শিকার হতে হয়। অনেকে ভয়ে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে থাকেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আগস্টের পর থেকে তাদের এই চাঁদাবাজি আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। একেক এলাকায় প্রায় নিয়মিতভাবেই হিজড়া দলের হানা দেখা যায়। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও আতঙ্ক বাড়ছে।
মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বাড়িতে নাতনি জন্মানোর পর কয়েকজন হিজড়া আসে। আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা দিতে চাইলে তারা অপমান করে, চিৎকার করে, এমনকি বাড়ির সামনে হৈচৈ শুরু করে দেয়। বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিতে হয়েছে।”
গণপরিবহনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের একই অভিযোগ। এক যাত্রী বলেন, “বাসে উঠেই তারা চড়াও হয়। টাকা না দিলে মারমুখী আচরণ করে। এতে নারী যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরো বিব্রতকর হয়।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন যে হিজড়াদের চাঁদাবাজির বিষয়টি দীর্ঘদিনের সমস্যা। তবে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এর সুরাহা হচ্ছে না। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
সচেতন মহল বলছে, হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ না নিলে তাদের এই বেপরোয়া চাঁদাবাজি আরও বাড়বে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোরভাবে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড দমন করতে হবে।

















