admin ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১০:১২ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
মাহবুবুজ্জামান সেতু : নওগাঁর মান্দা উপজেলার কশব ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী অভিযোগ করেছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছে একটি কুচক্রী মহল। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তালপাতিলা মোড় এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

লিয়াকত আলী বলেন, “সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে ‘পুলিশের সামনেই বাদী পক্ষকে হুমকি’ শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিষয়টি একটি পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধ। আমি সেখানে ইউনিয়নের একজন রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। কাউকে হুমকি দেইনি বরং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি।
তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি একজন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতা। হুমকির মতো কর্মকাণ্ড আমার দ্বারা হতে পারে না। সেখানে উপস্থিত থানার এসআই, সার্ভেয়ার এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সাক্ষ্য দিতে পারবেন যে, আমি কাউকে হুমকি দেইনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কশব ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান উজ্জ্বল। তিনি বলেন, “ঘটনার বিকৃত উপস্থাপন করে আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান ক্ষুন্ন করার চেষ্টা চলছে। সালিশে আমরা কোন উত্তেজনার সৃষ্টি করিনি। বরং উভয় পক্ষের শান্তিপূর্ণ মীমাংসার চেষ্টা করেছি।
একই অভিযোগ করেন ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য,দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলশাদ। তিনি বলেন, “এসআই মুঞ্জুরুল আলম সবাইকে শান্তিপূর্ণ আলোচনার অনুরোধ জানালেও বাদী পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনার সৃষ্টি করে পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করে।
নেতারা বলেন, “বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, অথচ এটি একটি সম্পূর্ণ পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধ। দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে ওই জমি খোরশেদ আলীর পরিবার ভোগদখলে রয়েছে। বর্তমানে মামলা আদালতে চলমান রয়েছে (মামলা নম্বর-১৯৯)।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মৃত খোরশেদ আলীর স্ত্রী সাকিরা জানান,জমি সংক্রান্ত বিরোধটি তাদের পারিবারিক। তার স্বামী জীবিতাবস্থায় ২০১৩ সালে তাদের দুই মেয়ে তপু ও সুরাইয়ার নামে ৯টি দাগে ২.৬৪ শতক জমির মধ্যে ১.৩২ শতক জমি লিখে দেন। এর মধ্যে ৩টি দাগে স্বামী খোরশেদের বোন মরিয়মের অংশ প্রতিপক্ষ কিনে নেয় এবং পরবর্তীতে তা জোরপূর্বকভাবে দখলের চেষ্টা করে।
সাকিরার দাবি, ওই জমিতে তার স্বামীর কবর রয়েছে, যা স্থানীয় সার্ভেয়ারের মাধ্যমে মাপজোখ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তারা জমির বাকি অংশে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষ থানা অভিযোগ দেয়। এরপর থানা উভয় পক্ষকে ডেকে সালিশের আয়োজন করে।
তিনি বলেন, “আমরা স্থানীয় মাতবরদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জড়িত করে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে বিএনপি নেতারা বলেন, “আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। কোনো ধরনের হুমকি, দখল বা জবরদস্তির রাজনীতি আমাদের নীতি নয়। প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে যারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”











