admin ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : রাজধানীর পল্লবী থানার বিভিন্ন এলাকায় গেল কয়েকদিন ধরে আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ—প্রতিদিনই ঘটছে ছিনতাই, বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, এমনকি প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডও ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ।

কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব
পল্লবীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি এবং জনবহুল এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের অবাধ বিচরণ এখন সাধারণ ঘটনা। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা, দলে দলে মহড়া এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন স্থানীয়দের আতঙ্কিত করে তুলেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, রাতে নয়, দিনের বেলাতেও এরা প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
ছিনতাই ও খুনের ঘটনা বৃদ্ধি
গত কয়েক দিনে পল্লবী থানা এলাকায় একাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন সাধারণ পথচারীরা। বাজারে যাওয়া থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ, এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সাধারণ মানুষের ক্ষোভ
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পুলিশের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। পুলিশের টহল কার্যক্রম দুর্বল এবং অনেক ক্ষেত্রেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে দেরি করে তারা। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ছে। আবার এ সকল ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতাদের গ্রেফতার করা হলেও ছোটখাটো মামলা দেয়া হয় তাদের, যার ফলে ২ একদিনের মধ্যেই জামিন পেয়ে আবারো এলাকায় ফিরে এসে, আগের তুলনায় আরো বেপরোয়া কর্মকাণ্ড করতে থাকেন তারা। এলাকাবাসী বলেন, এরা যে কয়েকদিন জেলখানায় থাকে, সেই কয়েকদিন এলাকাবাসি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। তাই এ সকল কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তাদের।
পুলিশের অবস্থান
পল্লবী থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বেশ কিছু অভিযানে অস্ত্রসহ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। শিগগিরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।
গত কয়েকদিন ধরে যা ঘটছে
গতকাল সোমবার সকালে পূজার ছুটিতে বাড়ি যাওয়া এক যুবক পল্লবীর তিন নাম্বার ওয়ার্ড, সি ব্লকের ৮ নম্বর লাইনের মাথায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। আবার একই দিন বিকেলে পল্লবীতে বাসায় ফেরার পথে খুন হয়েছেন রিফাত (২৮) নামে এক গার্মেন্টস শ্রমিক। আবার রবিবার রাতে এভিনিউ ৫ আব্বাসউদ্দিন স্কুলের পেছনে হাক্কার পার জোড়া খাম্বার নামক স্থানে প্রকাশ্যে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এভাবেই প্রতিদিনই ঘুটছে অসংখ্য ঘটনা।
উদ্বেগের শেষ নেই
তবে সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু অভিযান চালানোই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান। কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পাশাপাশি ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের টহল জোরদার এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।

















