দেশজুড়ে

মনোনয়ন-ক্ষোভে উত্তাল ঢাকা-১৬: স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার হুংকার দুই নেতার

  admin ৬ নভেম্বর ২০২৫ , ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রান্ত পারভেজ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কর্তৃক ঘোষিত ২৪৩টি আসনের প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের পরই দেশজুড়ে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র অসন্তোষ ও বিক্ষোভ। দলের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ থেকে শুরু করে নানা ধরনের আন্দোলন চলছে। রাজধানী ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-১৬ (পল্লবী-রূপনগর)-ও এই মনোনয়ন ও ক্ষোভের বাইরে নয়। এই আসনটিতে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও টানা ৪ বারের কাউন্সিলর বেগম মেহেরুন্নেছা হক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি ও শহীদ জিয়া মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব এ.কে.এম মোয়াজ্জেম হোসেন

দীর্ঘদিনের ত্যাগীরা বঞ্চিত

​জানা গেছে, বেগম মেহেরুন্নেছা হক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪ বারের সফল কাউন্সিলর হিসেবে এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। অন্যদিকে, আলহাজ্ব এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য সক্রিয়। কিন্তু এই দুই ত্যাগী নেতাদের কাউকে এবার দলের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

​এই বঞ্চনার পর বুধবার রাতে রাজধানীর পল্লবীতে নিজ বাড়িতে এলাকার জনসাধারণ এবং বিভিন্ন স্তরের বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি জনসমাবেশ করেন বেগম মেহেরুন্নেছা হক। ​জীবনের শেষ প্রত্যাশা এবং স্বতন্ত্র নির্বাচনের হুমকি ​জনসমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বেগম মেহেরুন্নেছা হক বলেন, “আমার বয়স হয়েছে। জীবনের শেষবারের মতো আমি দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি জনগণের জন্য কাজ করেছি। যদি দল আমার মতো ত্যাগীকে মূল্যায়ন না করে, তবে আমি বাধ্য হয়েই জনগণের সমর্থন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করব। তিনি দলের প্রতি তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

​অন্যদিকে, এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেনও একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন, “আমরা দল ভালোবাসি, তাই দলের প্রতি অনুরোধ ছিল—আমাদের দুইজনের (মেহেরুন্নেছা হক ও এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন) যেকোনো একজনকে যদি মনোনয়ন দেওয়া হতো, আমরা খুশি হতাম। কিন্তু আমাদের মতো তৃণমূলের পরীক্ষিত কাউকে না দেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। বাধ্য হয়ে যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়, আমরা প্রস্তুত।

তৃণমূলে বিভেদ ও জনদাবি

​মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের এমন কঠোর অবস্থান এবং স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির জন্য বড় ধরনের বিভেদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মনঃক্ষুণ্ন এই দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ​এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা মনে করছেন, এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও ক্ষোভ দলের ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

​জনসমাবেশে উপস্থিত একাধিক সাধারণ ভোটার জানান, নেতাদের মধ্যে এই মনোমালিন্য দলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হলো, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উচিত হবে দ্রুত এই আসনের মনোনয়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা এবং জনপ্রিয়, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। অন্যথায়, এই আসনটি হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সারাদেশে মনোনয়ন ঘিরে যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, ঢাকা-১৬ আসনের পরিস্থিতি তার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। দ্রুত এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন না হলে তা বিএনপির সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আরও খবর:

Sponsered content