দেশজুড়ে

চরম ভোগান্তি ও প্রাণহানির ঝুঁকি: রায়গঞ্জে বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতি ও সেবা নিয়ে প্রশ্ন

  admin ৮ নভেম্বর ২০২৫ , ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

মো. রুবেল তালুকদার : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার হাট পাঙ্গাসি ইউনিয়নের নওদা সালুয়া, কালিঞ্জা ও কয়াবিলসহ একাধিক গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের নিরাপত্তা সংক্রান্ত চরম অবহেলায় এলাকাবাসী দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ জাতীয় সম্পদ হলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাহক সেবার নামে চলছে চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, যা কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অসহযোগিতার হেল্পলাইন: অভিযোগেও উপেক্ষিত গ্রাহক

স্থানীয় এক নাগরিক জানান, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে বা সমস্যায় বিদ্যুৎ বিভাগের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা প্রায় অসম্ভব। বারবার ফোন করেও হয় কল রিসিভ করা হয় না, অথবা ফোন ‘বিজি’ দেখায়। তাদের ধারণা, কল ফরওয়ার্ডিং বা অন্যান্য কারিগরি ত্রুটির কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে গ্রাহকরা যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

স্থানীয় নাগরিকের ভাষ্য: “আমরা জরুরি প্রয়োজনে লাইনে যোগাযোগ করতে পারি না। একবার এক বাড়ির চালে আগুন ধরে গিয়েছিল। পাঙ্গাশি সাব স্টেশনের হেল্পলাইনে ফোন করেও সাড়া না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ৯৯৯-এ কল করার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়াও, গেল কয়েকদিন আগে ঝরে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়,এ বিষয়ে বারংবার ফোন করা হলেও বিদ্যুৎ অফিসের সারা পাইনি এলাকাবাসী। গাছের সাথে ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারে চলছিল বৈদ্যুতিক লাইন। যে কোন সময় ঘুরতে পারতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এই গাফিলতির ফল কী হতে পারত, ভাবতেও ভয় লাগে।

নিয়মের তোয়াক্কা নেই:

অবৈধ সংযোগ ও অনিয়ম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং মিটার সংক্রান্ত কাজ নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘন করে এই কাজগুলো স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ানদের মাধ্যমে করানো হচ্ছে। কৃষি সেচের অবৈধ সংযোগ: বাসা থেকে প্রায় ২০০-৩০০ মিটার দূরে ৮/১০ টি‌ কৃষি সেচের মোটর চালানো হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, ‘সাইট কানেকশন’ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে এই অবৈধ কার্যকলাপকে প্রকারান্তরে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

নতুন লাইনম্যানের ভূমিকা:

স্থানীয়দের দাবি, নতুন লাইনম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই অনিয়ম ও সমস্যা আরও বেড়েছে।

প্রাণঘাতী টেপ-কানেকশন:

ঝুলছে শত পরিবারের জীবন নিরাপত্তা ইস্যুতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বিদ্যুৎ সংযোগের মান। পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের LT (লো-টেনশন) লাইনের অনেক সংযোগে নিরাপদ কানেক্টরের পরিবর্তে অস্থায়ীভাবে টেপ-পদ্ধতিতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নিম্নমানের ও অনিরাপদ সংযোগ যেকোনো মুহূর্তে শর্ট সার্কিট ঘটাতে পারে। বর্তমানে এই ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের কারণে প্রায় ১০০ পরিবারের ঘর ঝুঁকিতে রয়েছে এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বিচ্ছিন্নতার তথ্য নেই: ঝুঁকিতে এলাকাবাসী :

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা মেরামতের জন্য বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার বিষয়টি মাইকিং করে জানানোর কথা থাকলেও তা করা হয় না। ফলে বিদ্যুৎ কখন আসবে বা যাবে, তা জানতে না পারায় স্থানীয়রা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির সম্মুখীন হন এবং দৈনন্দিন কাজে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটে।

দ্রুত সমাধানের দাবি :

বিদ্যুৎ বিভাগের এমন চূড়ান্ত অবহেলা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

তাদের প্রধান দাবি:

অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ টেপ-পদ্ধতির সংযোগগুলো নিরাপদ কানেক্টর দিয়ে প্রতিস্থাপন করা।
অবৈধ সাইট কানেকশনগুলো যাচাই ও বিচ্ছিন্ন করে নিয়মের আওতায় আনা।
গ্রাহক সেবার মান উন্নত করা এবং হেল্পলাইন ২৪ ঘণ্টা সচল রাখা।
জরুরি মেরামত কাজের আগে মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও খবর:

Sponsered content