অপরাধ

সিরাজগঞ্জে সাংবাদিক রুবেল অপহরণে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মুন্না ৩ মাসেই আবার পুনর্বহাল

  admin ১৪ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

আসিফ মাহমুদ : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নওদা শালুয়া গ্রামের চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক রুবেল তালুকদারকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়া কামারখন্দ ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মুন্না সরকার মাত্র তিন মাসের মাথায় আবারও তার পদে পুনর্বহাল হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ এবং সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ শাসন আমলে মুন্না সরকার ছাত্রলীগের সাথে সম্পর্ক গড়ে কামারখন্দ ইউনিয়নের বাজার ভদ্রঘাট এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি হঠাৎ করেই পক্ষ পরিবর্তন করে ছাত্রদল নেতার পরিচয়ে সক্রিয় হন। জনতার আলোর হাতে আসা তার একাধিক ছবিতে সেই প্রমাণ আমি মিলেছে।

সাংবাদিক অপহরণ ও নির্যাতন

​মুন্না সরকারের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার জেরে সাংবাদিক রুবেল তালুকদারকে শাস্তি দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি ও তার গ্যাংয়ের সদস্যরা। অভিযোগ অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসের ১৭ তারিখ রাতে মুন্না সরকার ও তার সহযোগী গ্যাংবাহিনী সহ রুবেল তালুকদারকে তার বাড়ি থেকে পরিবারের সামনে ফিল্মি স্টাইলে তুলে নিয়ে যান। এরপর তাকে বাজার ভদ্রঘাটের একটি পরিত্যক্ত ধান ভাঙ্গানো ঘরে আটকে রেখে বর্বরভাবে মারধর করেন এবং পিস্তল ঠেকিয়ে মামলার হুমকি দেন। এরপর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সামাদুলের বাসায় নিয়ে আরেকতরফা নির্যাতন করেন তারা।

​এই জঘন্য ঘটনার প্রমাণের ভিত্তিতে ইউনিয়ন ছাত্রদলের পক্ষ থেকে মুন্না সরকারকে প্রাথমিক পর্যায়ে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু সেই বহিষ্কারের তিন মাস না আর হতেই আবারো তাকে পূর্বের পদে বহাল করা হয়েছে।

 মুন্না সরকার কখনো ছাত্রলীগ, কখনো ছাত্রদল হয়ে তার যত তার অপকর্ম :

আওয়ামী লীগ শাসনামলে এই মুন্না কামারখন্দ ইউনিয়নের ভদ্রঘাত এলাকার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েকে অপহরণ করে দীর্ঘদিন তার নিজের কাছে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও, স্থানীয় থানায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আবার সিরাজগঞ্জ র‌্যাব ১২ তেও রয়েছে তার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের প্রদান হিসাবে তার নাম। এ সকল অপকর্ম চালিয়ে যেতেই তিনি ক্ষণে ক্ষণে দলবদল করেন বলে অভিযোগ এলাকার সাধারণ মানুষের।

৩ মাসের মধ্যেই পুনর্বহাল: লোক দেখানো শাস্তি?

​যদিও এই গুরুতর অপরাধের জন্য তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে তিন মাস পার না হতেই ছাত্রদল কর্তৃপক্ষ তাকে আবারও পদে পুনর্বহাল করেছে। এমন একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, যার বিরুদ্ধে সাংবাদিক অপহরণ, নির্যাতন এবং নারী অপহরণ ও নারী নির্যাতন সহ, বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতাসীন দলের সাথে সম্পর্ক রেখে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাকে দ্রুত পুনর্বহাল করায় বিএনপি’র এই অঙ্গসংগঠনটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

​এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল মনে করছেন, এমন পুনর্বহাল প্রমাণ করে যে প্রাথমিক পর্যায়ে দেওয়া শাস্তিটি হয়তো শুধুমাত্র লোক দেখানো ছিল।

মুন্না সরকারকে পুনরায় দলে পুনর্বহহহলের বিষয়ে জনতার আলো’র পক্ষ থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার সভাপতি এবং কামারখন্দ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিবকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও, তারা কেউই ফোন রিসিভ করেনি।

জনদাবি: সন্ত্রাসমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার পথে বাধা

​এলাকার সাধারণ মানুষ এবং সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ছাত্রদলের মতো একটি স্বনামধন্য অঙ্গ সংগঠন যদি এভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও আওয়ামী দোসরদের লালন-পালন ও প্রশ্রয় দিতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে একটি সন্ত্রাসমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়া কখনোই সম্ভব হবে না।

​তারা অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী ও আওয়ামী দোসরকে পুনরায় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আরও খবর:

Sponsered content