admin ২০ নভেম্বর ২০২৫ , ১২:১৬ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : রাজধানীর পল্লবী থানাধীন আদর্শ নগর এলাকায় বাকি টাকা চাইতে গিয়ে এক পাওনাদার ব্যবসায়ীকে মোবাইল ফোনের আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। টাকা পরিশোধ না করে উল্টো ব্যবসায়ীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের আতঙ্কে এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত। সকাল থেকে সারারাত সবুজ বাংলা আবাসিক এলাকা, আদর্শ নগর ও ৫৪ প্লটে চলে মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্ম্য। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই এলাকায় বছরেও একবার প্রশাসনের টহল নজরে পরেনি সাধারণ মানুষের।
বকেয়া খেলনার দাম চাওয়ায় হামলা
জানা গেছে, ঘটনার মূল হোতা মাদকাসক্ত। আহত ওই পাওনাদার রাজধানীজুড়ে ঘুরে ঘুরে বাচ্চাদের খেলনা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত কয়েকদিন আগে ৫৪ প্লটে একটি পরিবার বাচ্চার জন্য বাকিতে একটি খেলনা নেন। সেই বকেয়া টাকা আজ, বৃহস্পতিবার, পরিশোধ করার কথা থাকলে ওই পাওনাদার ৫৪ প্লট এলাকায় টাকা নিতে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টাকা চাইতে গেলে ওই পরিবারটি দিতে অস্বীকার করেন এবং একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের সৃষ্টি হয়। এরপর ওই পরিবারের এক যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে খেলনা বিক্রেতার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে পাওনাদার ব্যবসায়ী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আহত ওই পাওনাদার রাজধানীর কাজীপাড়ায় বসবাস করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের আতঙ্কে এলাকাবাসী
এই ঘটনার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এই হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ফল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত একমাস যাবত পল্লবীর ৫৪ প্লট, আদর্শ নগর ও সবুজ বাংলা এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে।মদকাসক্তদের উৎপাত ও তাদের হাতে সাধারণ মানুষের হয়রানির কারণে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটছে।
এলাকার সাধারণ মানুষ বলছেন, “গত একমাস ধরে আমরা চরম আতঙ্কে আছি। কিশোর গ্যাং আর মাদক কারবারিদের জন্য সন্ধ্যের পর ঘর থেকে বেরোনো দায় হয়ে পড়েছে। সামান্য টাকা চাইতে গিয়ে এভাবে একজন ব্যবসায়ীকে রক্তাক্ত হতে হলো, এটা খুবই দুঃখজনক।
টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবি
এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দ্রুত পল্লবীর এই এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এই মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোরও জোর দাবি জানানো হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ধীরে ধীরে এসব এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

















