admin ২১ নভেম্বর ২০২৫ , ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : হঠাৎ করেই পুরো রাজধানী জুড়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত । আজ শুক্রবার ২১ নভেম্বর ১০টা ৩৭ মিনিটের দিকে শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাবে রাজধানীর পল্লবী এলাকার সবুজ বাংলা ও এভিনিউ-৫-এর বেশ কয়েকটি বাড়ি ও ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় বহুতল ভবন থেকে শুরু করে টিনশেড বাড়ির বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ক্ষতির চিত্র: বহুতল ও টিনশেড ক্ষতিগ্রস্ত
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পল্লবীর সবুজ বাংলা এবং এভিনিউ-৫ এলাকায় একাধিক বহুতল ভবনের দেয়াল, ছাদ ও পিলারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বড় ধরনের ফাটল লক্ষ্য করা যায়। একইসঙ্গে এসব এলাকার বহু পুরোনো ও দুর্বল কাঠামোর টিনশেড বাড়িতেও ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে।
সবুজ বাংলা: একটি পাঁচ-ছয় তলা ভবনের প্রধান কাঠামোতে ফাটল দেখা দেওয়ায় সেগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, ভবনের দেয়াল ও সিঁড়ির একাধিক জায়গায় ফাটল স্পষ্ট। এভিনিউ-৫: তুলনামূলকভাবে নতুন কিছু ভবনেও ছোট-বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। পাশাপাশি বহু টিনশেড বাড়ির মাটির মেঝে এবং বাঁশের কাঠামোর সংযোগস্থলে ফাটল তৈরি হয়েছে।
ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় এলাকাবাসী চরম উদ্বেগে রয়েছেন। এ সময় অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা জায়গায় কিংবা তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এভিনিউ-৫-এর এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা আতঙ্কে আছি। এত ভয়াবহ ভূমিকম্প আগে দেখিনি। সবুজ বাংলার টিনশেড এলাকার এক বয়স্ক বাসিন্দা বলেন, “ছোট্ট ঘরে থাকি। ভূমিকম্পের পর দেখি দেয়ালে ফাটল। ঘর ভেঙে পড়লে কোথায় যাবো?
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শনের দাবি
এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে দ্রুত যেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সংস্থা থেকে একটি পরিদর্শন দল পাঠানো হয়। তাদের আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে এই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে পল্লবী থানা বা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপসংহার: এই ভূমিকম্প ঢাকার বহু পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিরাপত্তা এবং কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলল। দ্রুত কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

















