অপরাধ

পিবিআই তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য : মান্দায় ‘ভুয়া দলিল’ দেখিয়ে জমি দখলের চেষ্টা

  admin ২১ নভেম্বর ২০২৫ , ৪:২৯ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

মাহবুবুজ্জামান সেতু : নওগাঁর মান্দা উপজেলায় উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমি দখলের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন হামিদুল প্রামানিক। বহুদিনের দখলভোগ করা পারিবারিক জমির ওপর ‘ভুয়া কবলা দলিল’ দেখিয়ে মালিকানা দাবি এবং জোরপূর্বক দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

মামলাটি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৪(১)(ক), ৫(১)(ক, খ, ঘ) ও ১৬ ধারায় করা হয়েছে। মামলা নং ১০৩৯ সি/২০২৫। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।

এজাহারে বলা হয়, বাঁশবাড়িয়া মৌজার আরএস ১১০ নং খতিয়ানভুক্ত দাগ নং ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৮৭ ও ৩৮৮ মিলিয়ে ৩৫ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে বাদী পক্ষের দখলে। এর মধ্যে প্রায় ১৭.৫ ডেসিমেল ভিটাজমি রয়েছে।

বেকুল প্রামানিক পরিবারের এই জমি তাঁর দুই কন্যা আমেনা ও খায়রুন এবং ভাই শুকুর আলীর মাধ্যমে উত্তরাধিকারসূত্রে বণ্টিত হয়। পরবর্তীতে শুকুর আলীর দুই ছেলে মেহের আলী ও জেহের আলী এ জমির মালিক হন। মেহের আলীর মৃত্যুর পর তাঁর তিন ছেলে হামিদুল, বেলাল ও হেলাল জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।

বাদীর অভিযোগ, গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় আসামি সামাদ, জলিল, মিলন খাঁ, রেজাউল ও দেলেয়ারসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে জমিটি তাদের মায়ের নামে রেজিস্ট্রি করা দাবি করেন।

তারা বাদীর হাতে ১৯৭৪ সালের ৪৭৩ নং একটি ‘কবলা দলিলের’ ফটোকপি ধরিয়ে বলেন বেকুল প্রামানিক আমেনা খাতুনকে জমিটি বিক্রি করেছিলেন। দলিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পর হামিদুল মহাদেবপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নেন। তাঁর দাবি “বেকুল প্রামানিক কখনো জমিটি বিক্রি করেননি। দলিলটি সম্পূর্ণ ভুয়া। জমির দাম বাড়ায় একটি চক্রের সহায়তায় দলিল তৈরি করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আসামিরা বিভিন্ন সময় জমি দখলের চেষ্টা করেছে এবং বাধা পেলে ভয়ভীতি দেখিয়েছে।
মামলায় স্থানীয় সাতজনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। জমির দাগ, খতিয়ান ও তপশীলসহ সব কাগজ আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, জমিটি বহু বছর ধরে বাদী পক্ষের দখলে। তাদের ভাষ্যে “মেহের আলীর ছেলে হামিদুল দীর্ঘদিন ধরে এই জমি ভোগদখল করছেন। এ নিয়ে আগে কখনো ঝামেলা দেখা যায়নি।”
মামলাটি আদালত আমলে নিয়েছেন। শুনানির পর পরবর্তী নির্দেশ দেবেন।

আরও খবর:

Sponsered content