admin ৩০ নভেম্বর ২০২৫ , ১:১৫ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জার ইছামতি নদীতে অভিযান চালিয়ে দুইটি ভিন্ন ভিন্ন মামলায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে, এই জরিমানা আদায় করেন সহকারী ভূমি কমিশনার (এসিল্যান্ড)।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র উপজেলার কালিঞ্জা এলাকার ইছামতি নদী থেকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদী তীরবর্তী এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছিল এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছিল।

এ সকল বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগে ‘জনতার আলো’ পত্রিকার পক্ষ থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং উপজেলা নির্বাহীকে বিষয়টি অবগত করলে নড়েচড়ে বসেন তারা। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়গঞ্জ সহকারী ভূমি কমিশনার (এসিল্যান্ড) এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করে এবং বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ধারা ভঙ্গের অপরাধ সহ দুইটি ভিন্ন ভিন্ন মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নগদ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জনতার আলো’কে জানানো হয়, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযান একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। যারা সরকারি আইন অমান্য করে পরিবেশের ক্ষতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করায় সিরাজগঞ্জজেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সাধুবাদ জানিয়েছেন গ্রামের বসবাসরত সাধারন মানুষ। আগামীতেও এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে বন্ধে গ্রামবাসীর পাশে থাকবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জা ইছামতি নদীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক ঘোষিত বালু উত্তোলন নিলামকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনিয়ম ও নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। পাউবো ৬ মে ২০২৫ প্রকাশিত নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মোট ৩৮টি পয়েন্টে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়। এর মধ্যে ৩১ নম্বর পয়েন্ট হিসেবে কালিঞ্জা ব্রিজ থেকে কালিঞ্জা বাজার পর্যন্ত এলাকাটি নির্ধারিত ছিল।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত স্থান ছেড়ে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে নওদা ডুমুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, এই কাজে স্থানীয় বিএনপি’র নামধারী কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। যদিও তারা কেউ বড় কোনো পদে নেই, তবুও প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন চলমান রেখেছেন বলে অভিযোগ ছিল।
নিলাম শর্ত ভঙ্গ—ভারী ট্রাকের ব্যবহার
নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, বালু পরিবহনে ৫ টনের অধিক ট্রাক ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, বড় বড় ভারী যানবাহন দিয়ে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। এতে গ্রামের সড়কগুলো ভেঙে যাচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে জনদুর্ভোগ।
কৃষিজমি ধ্বংস ও ধুলাবালির স্বাস্থ্যঝুঁকি
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা ছিল, কৃষিজমি নষ্ট করা যাবে না। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি, চারদিকে আবাদি জমিতে রাস্তা তৈরি করে ভারী ট্রাক চলাচলের মাধ্যমে কৃষিজমি ধ্বংস করা হচ্ছে। বালি নিয়ে ট্রাক চলাচলের ফলে এই ধুলাবালির কারণে এলাকার মানুষ বিশেষ করে ছোট শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত অসুখে ভুগছেন। রাস্তার পাশের দোকানদার থেকে শুরু করে পথচারী, সবাই চরম ভোগান্তিতে।
অবৈধ রাস্তা তৈরি করে বালি পরিবহন
অভিযোগ রয়েছে, নওদা ডুমুর এলাকায় প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের জমির ভেতর দিয়ে প্রায় ৩০০–৪০০ মিটার দীর্ঘ একটি অবৈধ রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যবহার করে প্রতিদিন ট্রাকযোগে বালি পরিবহন চলছে।
এছাড়া নদীর ডুমুর এবং তার অপর পাড়ে আরেকটি নির্ধারিত পয়েন্ট থাকলেও, সে পয়েন্ট থেকে অনুমোদিত অংশ ছাড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে বালি কাটার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি—তাৎক্ষণিক তদন্ত ও ব্যবস্থা
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর দুই পাড়ের স্থায়িত্বও হুমকির মুখে পড়ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের নজরদারি, তদন্ত ও অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা আরও বলেন, “নদী, কৃষিজমি আর মানুষের জীবন সবই আজ ঝুঁকির মুখে। নিলামের শর্ত মানা হচ্ছে না, আর প্রভাবশালী মহল নিয়ম ভাঙতে পিছপা নয়।

















