জাতীয়

আজ বেগম রোকেয়া দিবস

  admin ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৭:৫৫ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

​নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৪তম জন্ম ও ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ, মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর, ২০২৫), সারাদেশে যথাযথ মর্যাদায় ‘রোকেয়া দিবস’ পালিত হয়েছে। নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই মহীয়সী নারীর অবদানকে স্মরণ করে দিনটি পালন করা হয়।

​এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি’।

রোকেয়া পদক প্রদান অনুষ্ঠান

​দিবসটি উপলক্ষে সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চারজন গুণী নারীর হাতে মর্যাদাপূর্ণ রোকেয়া পদক তুলে দেওয়া হয়।

​জাতীয় পুরস্কার-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সুপারিশক্রমে এ বছর যাঁরা পদক পেলেন: রুভানা রাকিব (নারীশিক্ষা শ্রেণিতে – গবেষণা) কল্পনা আক্তার (নারী অধিকার শ্রেণিতে – শ্রম অধিকার) নাবিলা ইদ্রিস (মানবাধিকার শ্রেণিতে) ​ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী জাগরণ শ্রেণিতে – ক্রীড়া) ​তাঁদের নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক প্রদান করা হয়।

​পদক প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

​প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বাণীতে বলেন, “ঊনবিংশ শতাব্দীতে রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া নারীদের ভাগ্যোন্নয়নের মূল চাবিকাঠি শিক্ষা। এ উপলব্ধি থেকে বেগম রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তারে বিরাট সাহসী ভূমিকা পালন করেন।” তিনি আরও বলেন, বেগম রোকেয়া নারী উন্নয়নের পথে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তার ধারাবাহিকতায় নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পদকপ্রাপ্তদের তিনি অভিনন্দন জানান এবং কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

দেশব্যাপী কর্মসূচি

​রোকেয়া দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ ক্রোড়পত্র, পোস্টার ও বুকলেট প্রকাশ করা হয়েছে।

রংপুরে বিশেষ আয়োজন

​বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকালে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্মভিটার বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, দুপুরে আলোচনা সভা এবং বিকেলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন।

​এছাড়া, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এর উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর শওকাত আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভা ও প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে কবি আব্দুল হাই শিকদার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডক্টর মাছুমা হাবিব এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

সংক্ষেপে রোকেয়ার লড়াই-সংগ্রাম

​১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের পায়রাবন্দের এক নিভৃত পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেলেও বড় ভাই ও বোনের সহায়তায় তিনি লেখাপড়া শেখেন এবং পরবর্তীতে স্বামীর উৎসাহে তাঁর জ্ঞান প্রসারিত করেন। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

​তাঁর গল্প, উপন্যাস, ও প্রবন্ধগুলোতে (যেমন: মতিচূর, সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মারাগ, অবরোধবাসিনী) সমাজে নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা ও অধিকারের স্বপ্ন তুলে ধরেন। নারীশিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদাপূর্ণ অধিকারের জন্য তাঁর লড়াই বাংলা সমাজে নারীর অগ্রগতির পথ সুগম করে। ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জরিপে তিনি ষষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আরও খবর:

Sponsered content