দেশজুড়ে

সামুদ্রিক বর্জ্য অপসারণে ইউনিলিভার ও কেওক্রাডং-এর যৌথ উদ্যোগ

  admin ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৭:২৬ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

বাংদেশের অন্যতম পরিবেশ-সংবেদনশীল উপকূলীয় অঞ্চল সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে সম্প্রতি এক বিশাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় নিত্য-ব্যবহার্য ও ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) এবং কেওক্রাডং বাংলাদেশ (কেবি)-এর যৌথ উদ্যোগে এই “ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ ২০২৫” অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহৎ উদ্যোগে ৫০০ স্বেচ্ছাসেবকের অংশগ্রহণ

​এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় অধিবাসীদের থেকে আসা প্রায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এই অভিযানে সেন্ট মার্টিনের সৈকত থেকে বিপুল পরিমাণ ১,৮৫০ কিলোগ্রাম সমুদ্র বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত বর্জ্যের মধ্যে খাদ্যের মোড়ক, প্লাস্টিকের বোতল ও ঢাকনা, প্লাস্টিক ব্যাগ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রী এবং পরিত্যক্ত মাছ ধরার জালের মতো নানান ধরনের বস্তু ছিল। পরিবেশবান্ধব উপায়ে অপসারণের জন্য এসব বর্জ্য নিরাপদে মূল ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়া হয়।

দায়িত্বশীল পর্যটন ও সচেতনতা বৃদ্ধি

​পর্যটন মৌসুমের প্রথম সপ্তাহান্তে কৌশলগতভাবে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি আয়োজন করা হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ও পর্যটনের চাপজনিত পরিবেশ-ঝুঁকি কমানো। স্বেচ্ছাসেবকেরা দর্শনার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক সেশন ও কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সঠিকভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি আচরণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন। স্থানীয়দের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ-সচেতনতা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অংশীদারদের মন্তব্য

​ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স–এর পরিচালক শামিমা আক্তার বলেন, “প্লাস্টিক প্যাকেজিং গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর পরিবেশগত প্রভাব কমাতে দায়িত্বশীল নকশা, ভার্জিন প্লাস্টিক ব্যবহার হ্রাস এবং পুনর্ব্যবহৃত উপকরণের ব্যবহার বাড়ানো অপরিহার্য। আমরা বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে মিলে বাজারে যত প্লাস্টিক দিচ্ছি, তার চেয়ে বেশি প্লাস্টিক পরিবেশ থেকে অপসারণে কাজ করছি। সেন্ট মার্টিনের এই উদ্যোগে তরুণ-তরুণী ও স্থানীয়দের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে, যা নাজুক ইকোসিস্টেম রক্ষা ও প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় যৌথ দায়িত্বকে শক্তিশালী করে।

​ওশান কনসারভেন্সির ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ–এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মুনতাসির মামুন মন্তব্য করেন, “সেন্ট মার্টিন এই দেশের জাতীয় সম্পদগুলোর একটি। তবে ক্রমবর্ধমান সামাজিক-অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এই সুন্দর দ্বীপ ও উপকূলের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে। আমরা বিশ্বাস করি, পরিবেশ সংরক্ষণে ইউনিলিভারের অগ্রণী ভূমিকা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং আমাদের এই অংশীদারত্ব অন্যদেরও দেশের ভালোর জন্য এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে।

কেওক্রাডং ও ইউবিএল-এর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা

​যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওশান কনসারভেন্সি-এর দেশীয় সমন্বয়কারী হিসেবে কেওক্রাডং বাংলাদেশ গত ১৫ বছর ধরে সেন্ট মার্টিনের সৈকতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং বৈশ্বিক মেরিন ডেব্রিস ডাটাবেসে মূল্যবান তথ্য যোগ করে আসছে। অন্যদিকে, ইউনিলিভার বাংলাদেশ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে চট্টগ্রামে দেশের সবচেয়ে বড় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি পরিচালনা করছে, ভার্জিন প্লাস্টিক কমানো ও রিফিলসহ নানান উদ্ভাবনী সমাধান উন্নয়ন করছে এবং দেশজুড়ে ভোক্তা-সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে।
​আয়োজকরা আশা করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ সেন্ট মার্টিনের পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে এবং টেকসই পর্যটন গড়ে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আরও খবর:

Sponsered content