admin ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই নির্বাচনের মাঠে প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রামে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর গণসংযোগে গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় সামনের দিনগুলোতে নির্বাচনী নিরাপত্তা কেমন থাকবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে প্রার্থী ও ভোটারদের মনে।

গুলিবিদ্ধ হলেন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদি
আজ শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই একজন প্রার্থীর ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলা, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
চট্টগ্রাম থেকে রাজধানী: হামলার পুনরাবৃত্তি
কেবল রাজধানী নয়, এর আগেও চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর গণসংযোগে হামলা ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের ধারাবাহিক হামলা এটাই প্রমাণ করে যে, তফসিল ঘোষণার পরও প্রার্থীরা নিরাপদ নন। স্থানীয় পর্যায়ে আরও বেশ কয়েকটি স্থানে প্রার্থীর ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা নির্বাচনের আগে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রার্থীর শঙ্কা
নির্বাচন কমিশন (ইসি) তফসিল ঘোষণার পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়েছে। কিন্তু এমন হামলার ঘটনায় মাঠে থাকা প্রার্থীরা এখন তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। ভোট যত এগিয়ে আসবে, সহিংসতার মাত্রা তত বাড়তে পারে। প্রার্থীরা বলছেন, ইসিকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো প্রার্থী বিনা বাধায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনাগুলো ভোটারদের মনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদি প্রার্থীরাই হামলার শিকার হন, তবে সাধারণ ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস পাবেন না।
এমতাবস্থায়, নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে - হামলার ঘটনাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো। প্রতিটি প্রার্থীর প্রচারণায় যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা প্রমাণ করার জন্য দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। অন্যথায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক গভীর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে প্রার্থী এবং ভোটাররা।

















