admin ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২:২৭ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর পল্লবী এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাং ‘ভইরা দে’ গ্রুপের প্রধান আশিক, তার ছোট ভাই মোবাইল চোর আতিক ও তার বাহিনীর সদস্যদের হামলায় বাংলা টিভির রিপোর্টার প্রান্ত পারভেজের স্ত্রী ও তার এক সন্তান আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে পল্লবীর সবুজ বাংলা আবাসিক এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পাশের বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন এবং বাড়িওয়ালা কেউ মাইরধর করেন তারা। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া আশিক তার দলবল নিয়ে এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজ।

হামলার বিবরণ
ভুক্তভোগী সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজ জানান, মঙ্গলবার দুপুরে আশিক ও তার বাহিনীর ১০-১২ জন সদস্য তাদের বাড়ির সামনে এসে জড়ো হয়। তারা মূল ফটকে লাথি মেরে দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। এ সময় তার স্ত্রী এগিয়ে গেলে আশিক ও তার দলের সদস্যরা তাকে এবং তার সন্তানকে মারধর করে। এতে তার স্ত্রী ও সন্তান উভয়ই আহত হন।
হামলার পরপরই সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজ বিষয়টি পল্লবী থানা এবং সেনা ক্যাম্পকে অবহিত করেন। তার ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও সেনা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
কিশোর গ্যাং প্রধানের মুক্তি ও হামলা
সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজ অভিযোগ করেন, কিশোর গ্যাং ‘ভইরা দে’ গ্রুপের প্রধান আশিক রাজধানীর পল্লবী এলাকার জন্য ‘মূর্তিমান আতঙ্ক’। তিনি জানান, আশিক গতকালই (সোমবার) গ্রেপ্তার থেকে মুক্তি পেয়েছে। মুক্তি পাওয়ার একদিন পরই সে দলবল নিয়ে তার বাড়ি ও পরিবারের সদস্যদের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে প্রান্ত পারভেজ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং আশিকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন। তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাংবাদিক মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এমন কোন অপকর্ম নেই যা করে না এই আশিক ও তার বাহিনী। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও মানুষ খুনসহ সবকিছুই করেন তারা। গত কয়েক বছরে তার চাঞ্চল্যকর এসব অপরাধের তথ্য উঠে আসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। ছাত্রলীগ করা এই ভয়ংকর আশিক পাঁচ আগস্টের পরে এখনো চলছে তার অপকর্ম। এই কুখ্যাত আশিকের বিরুদ্ধে পল্লবী থানাসহ আশপাশের থানায় ২০টির অধিক মামলা রয়েছে।
এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান আশিককে ‘ক্রসফায়ারের আওতায়’ আনার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে মিরপুরবাসী ও পল্লবীবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে এবং এলাকায় শান্তির পরিবেশ বজায় থাকবে।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনানুগ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
















