অপরাধ

থার্টিফার্স্ট নাইট ঘিরে পল্লবীতে ‘ভইরা দে’ গ্রুপের আতঙ্ক : নির্ঘুম রাত কাটানোর শঙ্কায় এলাকাবাসী

  admin ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:৫৩ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

স্টাফ রিপোর্টার : বছরের শেষ রজনী বা ‘থার্টিফার্স্ট নাইট’ ঘিরে যখন সারা দেশে উৎসবের আমেজ, তখন মিরপুরের পল্লবী এলাকার বাসিন্দাদের মনে কাজ করছে চরম আতঙ্ক। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত ‘ভইরা দে’ গ্রুপের লিডার আশিক ও তার বাহিনীর সশস্ত্র মহড়ার আশঙ্কায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে পল্লবীর বিভিন্ন ব্লকে।

 

আতঙ্কের নাম ‘ভইরা দে’ গ্রুপ

​পল্লবীর স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, থার্টিফার্স্ট নাইট আসলেই এলাকাটি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। বিশেষ করে আশিকের নেতৃত্বাধীন এই গ্রুপটি দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে পুরো এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। গত বছরও বর্ষবরণের রাতে পল্লবী থানাধীন ৫৪ প্লট এলাকায় এই গ্রুপের সদস্যরা প্রতিপক্ষ গ্রুপের সদস্যদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। সেই হামলায় দুজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছিল, যা আজও স্থানীয়দের মনে দগদগে ক্ষত হয়ে আছে।

এবারের ​চলমান পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শিথিলতার সুযোগ নিয়ে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি এ বছর আরও বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লবীর এক বাসিন্দা বলেন: ​থার্টি ফার্স্ট নাইট মানেই আমাদের কাছে আতঙ্কের রাত। আশিক বাহিনী যেভাবে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়, তাতে ঘরের বাইরে বের হওয়াতো দূরের কথা, জানালার পাশে দাঁড়াতেও ভয় লাগে। আমরা চাই প্রশাসন এবার কঠোর ব্যবস্থা নিক।

স্থানীয়দের দাবি ও বর্তমান অবস্থা

​পল্লবীর আদর্শ নগর, ৫৪ প্লট, তালতলা বস্তি, সবুজ বাংলা ও এভিনিউ-৫ সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই গ্রুপটির কারণে। তাদের অভিযোগ, এই সন্ত্রাসী গ্রুপটি প্রকাশ্যেই হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। এমতাবস্থায় এলাকাবাসীর জোর দাবি: ​পল্লবীর প্রতিটি এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি থার্টি ফার্স্ট নাইটের আগের রাত থেকেই যৌথ বাহিনীর টহল নিশ্চিত করা হোক। এছাড়াও, ​চিহ্নিত সন্ত্রাসী আশিক ও তার বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের কোথাও জানান এলাকার সাধারণ মানুষ।

​আইশৃঙ্খলা বাহিনী বলছেন, বর্ষবরণের রাতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন তারা। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যাতে তারা নির্ভয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পারেন।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে ১৬ আসনের এমপি আলহাজ্ব ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ এর খুব কাছে থেকে যুবলীগের রাজনীতি করতেন ‘ভইরা দে’ গ্রুপের প্রধান আশিকের বাবা খালেকুজ্জামান। সেই বাবার ক্ষমতা বলেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগে যোগ দিয়ে পল্লবীতে গড়ে তোলেন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ‘ভইরা দে’ গ্রুপ। এখন তার বাবা পরিবহন ব্যবসার ছলে এলাকা থেকে পালিয়ে বসবাস করছেন মতিঝিল। তবে, ছেলের রাজত্ব এখনো পল্লবীতে বিরাজমান।

উল্লেখ্য : পল্লবীর একটি মামলা সূত্রে জানা যায়, এই ‘ভইরা দে’ গ্রুপের আশিক ও তার বাহিনী গত ১৬ই ডিসেম্বর দুপুরে পল্লবীর সবুজ বাংলা আবাসিক এলাকায় বসবাসরত বাংলা টিভি’র রিপোর্টার প্রান্ত পারভেজের বাসায় ঢুকে প্রকাশ্যে তার স্ত্রীকে পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর করে। এতে করে আহত হন তার স্ত্রী ও কোলে থাকা শিশু। যার প্রমাণ মিলেছে সিসিটিভি ফুটেজে। এই হামলার ঘটনায় ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আশিক ও তার বাহিনীর কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। উল্টো ‘ভইরা দে’ গ্রুপের প্রধান আশিকের মা নাসিমা বিভিন্ন সেনা ক্যাম্প ও ডিএমপি পুলিশ কমিশনার এবং আইজিপি বরাবর সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ দেন। এমন মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন সাংবাদিক মহল। সাংবাদিক মহল বলছেন, প্রশাসন চাইলেই ২৪ ঘন্টার ভিতরেই এ সকল সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা সম্ভব, কিন্তু এখনো কেন গ্রেফতার করা হয়নি এ বিষয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।

তাই, আগামী থার্টিফাস্ট নাইট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ সকল গ্যাংয়ের সদস্য ও তাদের অর্থদাতা সহ এলাকার জন্য বিপদজনক কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

আরও খবর:

Sponsered content