অপরাধ

উপদেষ্টার নির্দেশ উপেক্ষিত: ঢাকা-১৬ আসনে গ্রেফতার হচ্ছে না চিহ্নিত নিষিদ্ধ আওয়ামী সন্ত্রাসীরা (পর্ব -১)

  admin ৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:১০ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশে চলছে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী দমনে ব্যাপক তৎপরতা চলছে,  ঢাকা-১৬ আসনও এই চিত্রের বাইরে নয়। তবে, পল্লবী ও রূপনগরের ভিন্ন জনমনে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ তাদের গ্রেফতারে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।

​বিগত ১৭ বছর ধরে পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী গত ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরু হওয়ার পর তারা পুনরায় এলাকায় সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। যেখানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল, মামলা না থাকলেও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে হবে, সেখানে ঢাকা-১৬ আসনের দৃশ্যপট ভিন্ন। স্থানীয়রা বলছেন, দেড় দশকে যারা বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম এবং ৫ আগস্টের আগে ছাত্র জনতার ওপর হামলায় সহযোগিতা করেছে, সেই ‘নিষিদ্ধ’ সংগঠনের ক্যাডাররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ সকল আওয়ামী নেতাকর্মীদের ধরতে তেমন একটা তৎপর নয় প্রশাসন। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ‘পুনর্বাসনের’ গুরুতর অভিযোগ

​সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপির কিছু পদধারী নেতার ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির কতিপয় অসাধু ও সুবিধাভোগী নেতারা ব্যক্তিগত স্বার্থে বা ভোটের মোহে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিচ্ছেন, এবং এলাকায় পুনর্বাসনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আবার আওমি সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের থেকে বাঁচাতে সুপরিকল্পিতভাবে মসজিদ কমিটিতেও বড় পদে রাখছেন তারা। আবার, একাধিক গোপন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা রাতের অন্ধকারে পল্লবীর মদিনা নগর এলাকায় আওয়ামী নেতাদের সাথে গোপন বৈঠক করছেন। এতে করে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

​পল্লবীর বেশ কয়েকজন সাধারণ ভোটার নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত ১৭ বছর এলাকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘরে ঘুমাতে পারেনি, এমনকি একেক জন নেতাকর্মির বিরুদ্ধে মামলার পাহাড়। এ সকল কর্মকান্ড যারা করেছে তাদের সাথেই কিভাবে আবার মিলেমিশে কাজ করার চেষ্টা করছে পল্লবীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের নেতারা। তাহলে কি তারাদের থেকে খালেদা জিয়ার আদর্শ ভুলে যাওয়ার দৃশ্য দেখছি?

পল্লবী এলাকার আরো একজন ভুক্তভোগী বলেন, যারা গত ১৭ বছর আমাদের ওপর জুলুম করেছে, তাদের সাথে হাত মিলিয়ে ভোটে জেতার এই নোংরা রাজনীতি আমরা মেনে নেব না।

​নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। রূপনগর এলাকার বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের আগে এসকল সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা না হলে এলাকায় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যৌথবাহিনীর অভিযানে রূপনগর ও পল্লবী থেকে কিছু সন্ত্রাসী গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেলেও, তালিকাভুক্ত আওয়ামী লীগের নেতারা কেন এখনো ধরা পড়ছে না, এ বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

​সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, নির্বাচনের আগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হলে কোনো দলীয় বা ব্যক্তিগত প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। অন্যথায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হবে।

পল্লবী ও রুপনগর এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম, ছবি ও ফিরিস্তি দ্বিতীয় পর্বে আসছে……

আরও খবর:

Sponsered content