অপরাধ

নদী লুটের মহোৎসব রায়গঞ্জের কালিঞ্জা নদীতে: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বালু উত্তোলন, নীরব প্রশাসন

  admin ৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:২১ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

স্টাফ রিপোর্টার : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জার ইছামতি নদী থেকে ফের দীর্ঘদিন যাবত বেপরোয়াভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে জনতার আলো’র অনুসন্ধানে। আগের পর্বের পর এবার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আরও বিস্তৃত একটি সংঘবদ্ধ বালুখেকো চক্রের অস্তিত্ব, যেখানে জড়িত রয়েছে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা, সাবেক জনপ্রতিনিধি, কিশোর গ্যাং লিডার এবং ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কালিঞ্জা, নওদা শলুয়া ও নওদা ডুমুর গ্রামের আশপাশের নদী এলাকা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বালু উত্তোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভাবশালী বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের পদধারী কয়েকজন নেতা, সাবেক ইউপি সদস্য, এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রক এবং আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী সরাসরি এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত।

প্রশাসনিক নজরদারি প্রশ্নবিদ্ধ

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান চালানো হলেও তা মূল চক্রকে স্পর্শ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“অভিযান হয় ঠিকই, কিন্তু দু-একদিন পর আবার আগের মতোই বালু তোলা শুরু হয়। তাহলে কি প্রশাসনের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজ ছাড়া এটা কি সম্ভব?

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইছামতি নদী থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য। কৃষিজমি, বসতভিটা ও অবকাঠামোও পড়ছে ঝুঁকিতে।

কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই বালুখেকো চক্র প্রতি সপ্তাহে আনুমানিক ৭ থেকে ১০ লক্ষ টাকার অবৈধ বালু বিক্রি করছে চক্রটি। সড়কপথে দিন ও রাতের আঁধারে ট্রাকে করে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। জনতার আলো’র আগের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কয়েকজনের নাম প্রকাশ করা হলেও এবারের অনুসন্ধানে সেই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন, নওদাশালুয়া তালুকদার পাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা ও নব্য বিএনপি বনেযাওয়া জুলফিকার আলী ঠান্ডু, ওয়ার্ড বিএনপি’র সদস্য নবীন তালুকদার, সহিদুল ইসলাম তালুকদার (লাকি), কালিঞ্জার, শওকত খান, সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার ও তার ছেলে এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাং লিডার ভেকু ড্রাইভার রাব্বি ও সিএনজি ড্রাইভার এবং বিএনপি’র ওয়ার্ড সহ-সভাপতি জহুরুল। নওদা ডুমুরের সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম খান, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা জুয়েল খান, আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল খান ও ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন।

এলাকাবাসীর দাবি

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ইছামতি নদী থেকে সব ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নইলে পরিবেশ বিপর্যয়ের দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি তাদের।

এ বিষয়ে, এসিল্যান্ডের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বালু খেকো চক্রের বিরুদ্ধে জনতার আলো’র অনুসন্ধান চলমান, এ বিষয়ে বিস্তারিত আরো আসছে দ্বিতীয় পর্বে….

আরও খবর:

Sponsered content