admin ১১ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:০৫ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর পল্লবী ও মিরপুর এলাকায় মাদক, ছিনতাই আর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা কুখ্যাত ‘ভইরা দে’ গ্রুপের লিডার আশিক গ্রেফতার হলেও জনমনে স্বস্তি ফিরেনি। গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে মিরপুর জোন ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুটি রিভলবার ও ২২ রাউন্ড গুলিসহ সে গ্রেফতার হয়। উদ্ধারকৃত গুলির মধ্যে ২০ রাউন্ড গুলি গত ৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় পল্লবী থানা থেকে লুট হওয়া সরকারি গুলি।


অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে রহস্য ও জনমনে প্রশ্ন
ডিবি পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার হলেও এখনো হদিস মেলেনি থানা থেকে লুট হওয়া মূল আগ্নেয়াস্ত্রগুলো। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যেহেতু আশিকের কাছে লুট হওয়া গুলি পাওয়া গেছে, সেহেতু লুট হওয়া অস্ত্রগুলোও তার কাছে বা তার হেফাজতে থাকার সম্ভাবনা শতভাগ। কিন্তু সেই অস্ত্রগুলো এখনো উদ্ধার না হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে তার বাহিনীর সদস্যরা যে কোন সময় ঘটাতে পারে বড় ধরনের নাশকতা। এমনকি আশিকও ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে।

জামিনে মুক্তির গুঞ্জন ও ‘১০ লাখ টাকার চুক্তি’
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ছড়িয়েছে আশিকের পরিবারের পক্ষ থেকে। এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে, ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ‘কন্টাক্ট’-এর মাধ্যমে আশিককে খুব শীঘ্রই জামিনে ছাড়িয়ে আনা হবে। এর আগেও একাধিকবার গ্রেফতার হওয়ার পর খুব অল্প সময়ে জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছিল সে।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: ”দুইটি রিভলবার এবং সরকারি গুলিসহ ধরা পড়ার পরও যদি কেউ দ্রুত জামিন পায়, তবে সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা কোথায় থাকবে? টাকার কাছে কি আইন বিক্রি হয়ে যাচ্ছে?
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরণের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্তি পেলে পল্লবী ও মিরপুর এলাকায় খুন-খারাবিসহ বড় ধরণের অপরাধের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আশিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এমনকি তাকে ‘এনকাউন্টার’-এর আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

এলাকায় সক্রিয় আশিকের ছোট ভাই ‘মোবাইল চোর আতিক’
শীর্ষ সন্ত্রাসী আশিক কারাগারে থাকলেও তার অবর্তমানে মাঠ সামলাচ্ছে তার আপন ছোট ভাই আতিক ওরফে মোবাইল চোর আতিক। মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং চোরাই মোবাইলের বিশাল সিন্ডিকেট এখন আতিকের নিয়ন্ত্রণে। আতিক প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ কেন তাকে ধরছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগীদের দাবি, অনতিবিলম্বে আতিককেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এসকল বিষয়ে মিরপুর জোনের ডিবি পুলিশের কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, আশিককে রিমান্ডে আনা হয়েছে, থানার লুঠো অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এবং তার সহযোগীদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়াও, মিরপুর এলাকায় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
পল্লবীর সাধারণ মানুষ এখন শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে চায়। তারা এই সন্ত্রাসী আশিক বাহিনীর মূল উৎপাটন এবং লুট হওয়া সকল অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

















