অপরাধ

নওগাঁর মান্দা উপজেলা চত্বরে সড়ক কার্পেটিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ

  admin ১২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

মাহবুবুজ্জামান সেতু : নওগাঁর মান্দা উপজেলা চত্বরে সড়ক পাকাকরণ (কার্পেটিং) কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার সপ্তাহ না যেতেই রাস্তার কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের চোখের সামনেই নিম্নমানের কাজ হওয়ায় প্রকল্পের তদারকি ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন উপজেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও কাজের মান নিয়ে কেউ দায় নিতে চাইছে না। তাদের ভাষ্য, উপজেলা চত্বরে যদি এমন অনিয়ম হয়, তাহলে অন্য এলাকায় উন্নয়নকাজের মান কেমন—তা সহজেই অনুমেয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও রাস্তার রেজিং উঠে গেছে, কোথাও দেবে গেছে সড়ক, আবার কোথাও কার্পেটিংয়ের পুরো স্তরই খুলে পড়ছে। হাতের টান কিংবা পায়ের ঘষাতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং—এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে একাধিক স্থানে। স্থানীয়রা জানান, কোথাও কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব কম, কোথাও যথাযথ রোলিং ছাড়াই কাজ শেষ করা হয়েছে।

এলজিইডি সূত্র জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে কাজটি বাস্তবায়নের নির্দেশ পান ঠিকাদার তানজিমুল ইসলাম। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৭০১ টাকা। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তানজিমুল ইসলাম বলেন,“কাজ করতে গিয়ে অনেক লস হয়েছে। তারপরও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কিছু জায়গায় সমস্যা হয়েছে, সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে।”

কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম অনিয়মের বিষয়টি আংশিকভাবে স্বীকার করে বলেন,“কাজটি দেখভালের জন্য চারজন কার্যসহকারী ছিলেন। আমি নিজেও পয়েন্টে ছিলাম। কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে, সেগুলো ঠিক করা হবে।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ জানান,
“ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। দ্রুত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার করা হবে। কাজ সম্পূর্ণ ও মানসম্মত না হলে বিল দেওয়া হবে না।”

এদিকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

আরও খবর:

Sponsered content