admin ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : রাজধানীর পল্লবী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা শীর্ষ সন্ত্রাসী মোঃ কাল্লু ওরফে মোস্তাকিম হোসেন ওরফে ‘বোমা কাল্লু’ (৩৭)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অপহরণের পর গলা কেটে হত্যা, বিস্ফোরক ও মাদকসহ অন্তত ৭টি মামলা রয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) তাকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সরাসরি বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
যেভাবে গ্রেফতার হলো কাল্লু
পল্লবী থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন ২০২৫ তারিখে পল্লবী থানায় দায়েরকৃত একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার (মামলা নং-২২) ২নং এজাহারনামীয় আসামি ছিল এই কাল্লু। গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম আলমগীর জাহানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের সময় কাল্লু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পড়ে গিয়ে তার বাম পা ভেঙে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ১০ দিন চিকিৎসা শেষে আজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ায় তাকে কড়া পুলিশ প্রহরায় আদালতে পাঠানো হয়।
অপরাধের খতিয়ান
পুলিশের রেকর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাল্লু পল্লবী ও বিহারী ক্যাম্প এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক। তার অপরাধের ধরণ ছিল অত্যন্ত নৃশংস।
লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড: তার বিরুদ্ধে অপহরণের পর গলা কেটে হত্যাসহ মোট ৪টি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
চাঁদাবাজি ও আতঙ্ক: বিহারী ক্যাম্প ও বস্তি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সে নিয়মিত চাঁদাবাজি করত।
কালুর বিরুদ্ধে, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মালামাল লুটে নেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ০৬টি মামলা আদালতে বিচারাধীন এবং নতুন একটি মামলা পল্লবী থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান জানান, “কাল্লু এলাকার চিহ্নিত অপরাধী। তাকে গ্রেফতারের ফলে পল্লবী ও মিরপুর এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। আমরা অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। তার সহযোগীদের বিষয়েও তদন্ত চলছে।
এলাকাবাসী জানান, ‘বোমা কাল্লু’র ভয়ে দীর্ঘ দিন তারা মুখ খুলতে সাহস পাননি। তার এই গ্রেফতারে এলাকায় চাঞ্চল্য ও স্বস্তি বিরাজ করছে।

















