admin ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রথমবারের মতো পোস্টার ছাড়া শুরু হয়েছে আফ্রিকার দেশ জুড়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকেই প্রার্থীরা প্রচারে নামার অনুমতি পেলেও, রাজধানী ও আশপাশের এলাকাগুলো ঘুরে কোথাও চোখে পড়েনি পরিচিত কোনো নির্বাচনি রঙ, স্লোগান কিংবা প্রার্থীদের মুখচ্ছবি।

সরকারের নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রচারণাকে গুরুত্ব দিয়ে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে পোস্টার, বিলবোর্ড ও দেয়াললিখন। পাশাপাশি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও আকাশপথে প্রচারণার ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
কিন্তু প্রচারণার প্রথম দিনেই দেখা দিয়েছে বড় প্রশ্ন—ভোটাররা চিনবেন কীভাবে তাদের প্রার্থীকে? রাজধানীর একটি শ্রমজীবী এলাকায় কথা হয় ট্যাক্সিচালক আব্দুল করিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে নির্বাচন মানেই রাস্তা জুড়ে পোস্টার, ব্যানার, মিছিল। এখন কিছুই নেই। কে দাঁড়িয়েছে, কোন দলে—কিছুই বুঝি না। মনে হচ্ছে নির্বাচন হচ্ছে নীরবে।
একই কথা বলেন স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মারিয়াম ন্দোয়ে। তার ভাষায়, আমি জানিই না আমাদের এলাকায় কে প্রার্থী। পোস্টার না থাকলে সাধারণ মানুষের কাছে খবর পৌঁছাবে কীভাবে?”
‘ডিজিটাল প্রচারণা’ বনাম বাস্তবতা
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণায় জোর দেওয়া হবে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। রাজধানীর এক চা দোকানে বসে কয়েকজন প্রবীণ ভোটার জানান, তাদের অনেকেরই স্মার্টফোন নেই, ইন্টারনেট ব্যবহারের অভ্যাসও নেই।
৭২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ইউসুফ দিওপ বলেন,
“আমরা অনলাইনে প্রচারণা দেখব কীভাবে? পোস্টারই ছিল সবচেয়ে সহজ উপায়। এখন তো নির্বাচন হচ্ছে, সেটাই ঠিকমতো বোঝা যাচ্ছে না।”
কড়া বিধিনিষেধ, ফিকে আমেজ
নতুন আচরণবিধিমালায় ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার পুরোপুরি নিষিদ্ধ। সীমিত সময়ের মধ্যে কম শব্দমাত্রায় মাইক ব্যবহার করা যাবে। ভোটকেন্দ্রের আশপাশে কোনো ধরনের প্রচারসামগ্রী বিতরণেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে সারাদেশে শত শত প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো ছাপ নেই। নেই প্রচারণার উত্তাপ, নেই ভোটের উৎসবমুখর পরিবেশ।
প্রশ্ন ভোটারদের মুখে মুখে রিকশাচালক মুসা কান্তে প্রশ্ন তুলে বলেন, পোস্টার ছাড়া আমরা চিনব কীভাবে কার মার্কা কী, কার চেহারা কী? ভোট তো চেহারা আর প্রতীক দেখেই দেই। এখন মনে হচ্ছে নির্বাচন হচ্ছে, কিন্তু মানুষের জন্য নয়।”
উপসংহার
পোস্টারমুক্ত প্রচারণা পরিবেশের জন্য ইতিবাচক হলেও, আফ্রিকার মতো দেশে—যেখানে এখনও বিপুল জনগোষ্ঠী ডিজিটাল মাধ্যমের বাইরে—সেখানে এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের দৃশ্যমানতা ও ভোটার সম্পৃক্ততাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। প্রচারণার প্রথম দিনেই স্পষ্ট, ভোটের মাঠে নেমেছে প্রার্থীরা, কিন্তু ভোটারদের চোখে সেই নির্বাচন এখনো প্রায় অদৃশ্য।

















