admin ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:৩৭ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছিল দলটির নির্বাচনী ‘থিম সং’। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতাদের নিয়ে গানটির উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই গানটির ভিডিওচিত্রের একটি বিশেষ অংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড়।

বিতর্কের মূলে যা আছে
প্রকাশিত মিউজিক ভিডিওটির ৫৪ সেকেন্ড এবং ১ মিনিট ২ সেকেন্ড সময়কালে বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্ম পরা দু’জন ব্যক্তিকে দেখা যায়। ভিডিওতে পুলিশের এই উপস্থিতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভিডিওর ওই অংশের স্ক্রিনশট শেয়ার করে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং বিএনপির আইটি ও প্রচার সেলের দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া ও আইনি প্রশ্ন
নেট দুনিয়ায় এখন প্রধান আলোচনার বিষয়—জাতীয় কোনো বাহিনীর পোশাক পরিহিত সদস্যদের রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রচারণায় ব্যবহার করা যায় কি না।
কিছু উল্লেখযোগ্য মন্তব্য ও প্রশ্ন নিচে তুলে ধরা হলো:
আচরণবিধি লঙ্ঘন: নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, “পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিরা কি কোনো দলীয় নির্বাচনী গানে থাকতে পারেন? এটি কি নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন নয়?”
পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন: কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, ভিডিওতে যারা অভিনয় করেছেন তারা কি প্রকৃত পুলিশ সদস্য নাকি অভিনেতা? অভিনেতা হলেও রাজনৈতিক গানের দৃশ্যে একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ইউনিফর্ম ব্যবহার করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে চলছে তর্ক।
সমালোচনার মুখে বিএনপি: উদ্বোধনের আনন্দ ম্লান হয়ে এখন গানটি ঘিরেই দলটিকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে যেতে হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পোশাক কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সম্পদে পরিণত হতে পারে না। ভিডিওতে পুলিশের উপস্থিতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর মন্তব্য।
এই সমালোচনা নিয়ে এখনো দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সংশোধনী বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত ভিডিওর ওই অংশটি এডিট করা হবে কি না, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।
থিম সং নিয়ে ভবিষ্যৎ শঙ্কা
নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনীর নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এই ভিডিওর কারণে বিএনপি আইনি বা নির্বাচনী কোনো নোটিশের মুখে পড়বে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
নির্বাচনী মাঠ গরম করতে আসা থিম সংটি শেষ পর্যন্ত বিএনপির জন্য নতুন কোনো বিড়ম্বনার কারণ হয় কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

















