admin ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৫:১২ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
মাহবুবুজ্জামান সেতু : নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে নির্বাচনের উত্তাপ ক্রমেই বেড়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে বিএনপি ও জামায়াতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা বাড়ি বাড়ি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং, পোস্টার এবং গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চিত্র স্পষ্ট।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘদিন পর এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই সবাই খুব আগ্রহী। মান্দার এক মধ্যবয়সী ভোটার জানিয়েছেন, “এবারে দেখা যাবে কে প্রকৃতভাবে মানুষের সেবা এবং উন্নয়নের কথা ভাবছে। প্রচারণা শুরু হয়েছে, তবে ভোট দিন পর্যন্ত শেষ মুহূর্তের অঙ্কই বড় ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী টিপু প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি এর আগে মান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অপর দিকে, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত ঐক্যজোট প্রার্থী খন্দকার মুহা. আব্দুর রাকিব মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংক ও সংগঠনের শক্ত কাঠামোর ওপর ভর করে তারা আশাবাদী। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই বাড়ি বাড়ি প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।
এই আসনে এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও অংশগ্রহণ করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তারা মূলত ভোটের ব্যবধান কমাতে বা নির্দিষ্ট এলাকায় প্রভাব ফেলতে পারেন।
প্রার্থী ও বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতীকঃ ডা. ইকরামুল বারী টিপু (বিএনপি)- ধানের শীষ,খন্দকার মুহা. আব্দুর রাকিব (জামায়াত)- দাঁড়িপাল্লা,আলতাফ হোসেন (জাতীয় পার্টি)- লাঙ্গল,সোহরাব হোসাইন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)-হাতপাখা,ডা. এস এম ফজলুর রহমান (সিপি)- কাস্তে,আরফানা বেগম ফেন্সি (স্বতন্ত্র)- কলস। অত্র আসনের ভোটার সংখ্যাঃ পুরুষ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৪, নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ২১২, হিজড়া ৪ জন।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, সিপি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্দিষ্ট এলাকায় ভোট ভাগাভাগি করতে পারার সম্ভাবনা রাখছেন। বিশেষ করে কেন্দ্রভিত্তিক ভোটারদের মনোভাব এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, “মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই।
প্রার্থীরা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি নিজেদের প্রচারণায় ব্যস্ত। তবে বিএনপি ও জামায়াতসহ কয়েকটি দলের পক্ষ থেকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি এখনও উচ্চারণ করা হচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শেষ মুহূর্তের ভোটার উপস্থিতি এবং নিরপেক্ষ ভোটারদের সিদ্ধান্ত নওগাঁ-৪ আসনের ফলাফল নির্ধারণ করবে।
ভোটারদের প্রত্যাশা, প্রার্থীদের সরাসরি সংযোগ, এবং ছোট দলের ভোট ভাগাভাগিই শেষ মুহূর্তে আসনের দিক নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

















