দেশজুড়ে

ঢাকা-১৬: কেন হারলেন আমিনুল? কিভাবে জিতলেন আব্দুল বাতেন?

  admin ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রান্ত পারভেজ : ঢাকা ঢাকা-১৬ আসনের নির্বাচনী লড়াই শেষ হলেও থামেনি আলোচনা-সমালোচনা। গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল আব্দুল বাতেনের জয় নিশ্চিত হলেও, পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক। তবে আমিনুল হকের এই পরাজয়কে নিছক ‘অঘটন’ হিসেবে দেখছেন না স্থানীয় ভোটাররা, বরং এর পেছনে উঠে আসছে চাঁদাবাজি ও বিতর্কিত রাজনৈতিক কৌশলের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

​নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী ৩,৩৮১ ভোটের ব্যবধানে কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন আমিনুল হক। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই আমিনুল হকের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারীদের দ্বারা পুনরায় নির্বাচনের দাবি তোলা হচ্ছে। এই দাবিতে ফেসবুক ও রাজপথে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

সাধারণ মানুষের চোখে পরাজয়ের নেপথ্য কারণ

জনতার আলো’র অনুসন্ধান এবং সরেজমিনে ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে আমিনুল হকের পরাজয়ের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে:

সাধারণ মানুষ বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ঢাকা-১৬ আসনের বিভিন্ন মহল্লায় বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে একদল কথিত নেতাকর্মী বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়। ময়লার গাড়ি থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোথাও বাদ পড়েনি তাদের থাবা। এই ‘দখলদারি’ সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপির ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

আবার, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক তৈরি করেছিল আমিনুল অনুসারীদের নির্বাচনী প্রচারণার ধরণ। অভিযোগ রয়েছে, বিগত দিনে মহল্লায় আতঙ্ককারী নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অনেক পালিয়ে থাকা নেতাকর্মীকে এলাকায় ফিরিয়ে এনে নির্বাচনী অফিসে আশ্রয় দেনতারা। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত এসব চেহারার মানুষকে পাশে নিয়ে ঘোরার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি সাধারণ মানুষ।

এছাড়াও, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আওয়ামী ক্যাডারদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের ফলে সাধারণ ভোটারদের মনে ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী বিভীষিকা ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়। যার প্রতিফলন ঘটে সরাসরি ব্যালট বাক্সে।

​এলাকার প্রবীণ ও সচেতন ভোটারদের মতে, বিএনপি যদি এই পরাজয় থেকে শিক্ষা না নেয়, তবে ভবিষ্যতে আসনটি ধরে রাখা কঠিন হবে। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান: মানুষ ৫ আগস্টের পর নতুন পরিবর্তনের আশায় ছিল। কিন্তু যখন দেখাগেল পুরোনো আওয়ামী নেতাদের সাথে নিয়েই ভোট চাওয়া হচ্ছে এবং মহল্লায় মহল্লায় চাঁদাবাজি চলছে, তখন মানুষ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে। এটা আসলে আমিনুল হকের বিরুদ্ধে নয়, বরং তার চারপাশের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের নীরব প্রতিবাদ।

ঢাকা-১৬ আসনের নবনির্বাচিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ ও তাদের অনুসারীরা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো তুলছেন, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। সত্য হলো, ঢাকা-১৬ আসনের মানুষ জুলুম থেকে মুক্তি পেতে মিথ্যার বিপরীতে ন্যায়কে বেছে নিয়েছেন। এই জয় আমার একার নয়, এই জয় আপামর জনতার। আমি আবারও বলছি, সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়েই আমি আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করব, ইনশাআল্লাহ। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুন্দর এলাকা গড়ে তুলব।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি’র এক নেতা বলেন, ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তারা পুনঃতদন্ত বা পুনর্নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

​ঢাকা-১৬ আসনের পরিস্থিতি এখন থমথমে। একদিকে আমিনুল হকের সমর্থকরা পরাজয় মেনে না নিয়ে নতুন করে নির্বাচনের দাবি তুলছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ মনে করছেন—বিপরীত স্রোতের রাজনীতি এবং জনবিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ডই এই ফলের জন্য দায়ী। এখন দেখার বিষয়, দলটি এই অভ্যন্তরীণ সংকট কাটিয়ে আগামীর জন্য নিজেদের কতটা সংশোধন করতে পারে।

আরও খবর:

Sponsered content