অপরাধ

এটা কি রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা, নাকি পর্দার অন্তরালে সমঝোতা?

  admin ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৬:২০ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রান্ত পারভেজ : গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অনেকটা দিশেহারা ও আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আবারও মাঠে নামার চেষ্টা করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তালা ভেঙে কিংবা তালা খুলে দলীয় কার্যালয় দখল এবং ব্যানার টানানোর মতো ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামিদের জামিন পাওয়ার বিষয়টি জনমনে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

​গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলো পুনরায় সচল হতে দেখা গেছে। অনেক জায়গায় স্থানীয় কর্মীরা রাতের আঁধারে বা ঝটিকা অভিযানের মতো করে কার্যালয়ের তালা খুলে সেখানে অবস্থান নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে নতুন করে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলটির তৃণমূল পর্যায়ে শক্তি সঞ্চয়ের এবং অস্তিত্ব জানান দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।

​সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের আসামিদের আইনি স্বস্তি। সাবেক সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের অনেকেই আদালতের মাধ্যমে জামিন পাচ্ছেন। যেখানে শত শত শিক্ষার্থীর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিপ্লবের পর ন্যায়বিচারের দাবি ছিল তুঙ্গে, সেখানে এই জামিন প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষ এবং ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা ‘বিপ্লবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন।

​”বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে—যখন দেখি রাজপথ রঞ্জিত করা খুনিরা আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসে। এটি সংস্কারের পথে বড় বাধা।একজন সাধারণ শিক্ষার্থী।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই পরিস্থিতিকে তিনটি প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে :

​১. সরকারের প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ডে কোথাও কোনো দুর্বলতা কাজ করছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।
২. রাজনৈতিক সমঝোতার পর্দার আড়ালে কোনো বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সমঝোতার গুঞ্জনও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
৩. আয়নার নেপথ্যে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে কিনা। নিষিদ্ধ সংগঠনের এই তৎপরতা যদি এখনই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

​জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল ফ্যাসিবাদ নির্মূল এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের এই ‘উদ্বোধন সংস্কৃতি’ এবং আইনি ক্ষেত্রে তাদের নেতাদের স্বস্তি পাওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। জনমানুষের প্রশ্ন—তবে কি সব ত্যাগ বৃথা যেতে বসেছে?

আরও খবর:

Sponsered content