অপরাধ

জনতার আলো’তে সংবাদ প্রচারের পর ভদ্রঘাটের ছাত্রদল নেতা ‘মুন্না সরকা’র বহিষ্কার

  admin ২১ আগস্ট ২০২৫ , ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

কাজী আশরাফুল হাসান : সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা ও কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত মুন্না সরকারকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে ইউনিয়ন ছাত্রদল। জনতার আলো পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

গত কয়েকদিন ধরে জনতার আলো পত্রিকায় মুন্না সরকার, যুবদলের বিপ্লব কুমার ঘোষ, মুন্নার মামা যুবদল নেতা মিজানুর, আরেক মামা অপু, মান্নান সরকার ও হেদুসহ তার বাহিনীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও কিশোর গ্যাং সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে স্থানীয় জনমনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং ছাত্রদলের অভ্যন্তরেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

বুধবার (২০ আগস্ট) কামারখন্দ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাহমুদুল হাসান ও সদস্য সচিব মো. তানভীর ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারাদেশ প্রদান করা হয়।

সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মুন্না সরকারকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল কামারখন্দ উপজেলা শাখা।

উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. তানভীর ইসলাম জানান, সংগঠনের আদর্শ ও নীতিমালার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার কারণে মুন্না সরকারকে সাময়িক নয়, স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এক বিবৃতিতে কামারখন্দ ইউনিয়নের অন্যান্য নেতারা বলেন, “আমরা সংগঠনকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে বদ্ধপরিকর। যারা ব্যক্তিস্বার্থে ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকবে, তাদের জন্য ছাত্রদলে কোনো স্থান নেই।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দলীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে কামারখন্দ ইউনিয়ন ছাত্রদল সঠিক পথে আছে এবং সমাজের অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয় না। আমরা চাই, এমন আরও সাহসী পদক্ষেপ যেন সব রাজনৈতিক সংগঠন গ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, মুন্না সরকার দীর্ঘদিন ধরে ভদ্রঘাট এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা, চাঁদাবাজি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। জনতার আলো পত্রিকায় প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কার্যকলাপ জনসমক্ষে উঠে আসে।

এছাড়াও, গত কয়েকদিন আগে সংবাদ প্রকাশের সন্দেহে সাংবাদিক রুবেল তালুকদারকে বাড়ি থেকে রাতের আঁধারে ফিল্মস্টাইলে অপহরণ করে নির্যাতন করে নিয়ে যায় ছাত্রদল নেতা মুন্না সরকারের বাহিনী। এনিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিক সমাজে। সাংবাদিক নির্যাতন ও অপহরণের বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু জাফর তার নিজ ফেসবুকেও এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানান। এবং অপহরণের একটি অডিও তার ফেসবুকে শেয়ার করেন। এখন বিএমএফ’র দাবি দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হোক।

এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, এই মুন্নার সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে অপকর্মের বিষয়টি যেহেতু তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, এবং দল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই, এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেন মুন্না সরকার সহ তার বাহিনীর সকল সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনে। এছাড়াও বাকি সন্ত্রাসীদের তদন্ত করে দল থেকে বহিষ্কার করে এমন দাবী তাদের। তাহলে আবারও ভদ্রঘাট সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজ মুক্ত হবে, স্বস্তি পাবে সাধারণ মানুষ।

আরও খবর:

Sponsered content