জাতীয়

বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল, গ্রাহকের গলা কাটছে প্রিপেইড মিটার!

  admin ২৯ জুলাই ২০২৫ , ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রান্ত পারভেজ : সারা দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সরকারি উদ্যোগে প্রচলিত মিটার ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু এ মিটার ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ নতুন এক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই প্রিপেইড মিটার গ্রাহকদের জন্য বাড়তি বিলের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই ইউনিট ব্যবহারের পরেও প্রিপেইড ব্যবস্থায় আগের তুলনায় প্রায় ২০-৩০ শতাংশ বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতি রিচার্জে ‘মিটার চার্জ’, ‘ডিমান্ড চার্জ’, ‘ভ্যাট’, ‘মেইনটেনেন্স ফি’সহ নানা খাতে কাটা পড়ছে বাড়তি টাকা।

মিরপুর এলাকার বাসিন্দা রুবিনা সুলতানা বলেন, “আগে যেখানে মাসে ৫০০ টাকার বিদ্যুৎ বিল হতো, এখন একই ব্যবহারে ৬৫০-৭০০ টাকা চলে যাচ্ছে। প্রতিবার রিচার্জ করলেই নানা চার্জ কেটে নিচ্ছে মিটার, অথচ আমরা বুঝতেও পারি না এগুলোর হিসাব।”

এছাড়া প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ শেষ হয়ে গেলে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা বিশেষ করে রাতে বা অসুস্থ রোগীর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি অনেকে অভিযোগ করেছেন, দিনে দিনে ব্যালেন্স ফুরিয়ে গেলেও রাত্রে বা ছুটির দিনে রিচার্জ করার সুযোগ না থাকায় পরিবারকে অন্ধকারে থাকতে হয়।

ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি) এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর কর্মকর্তারা বলছেন, এই মিটার ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজেদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এবং দুর্নীতি কমবে। তবে অতিরিক্ত চার্জের অভিযোগ প্রসঙ্গে তারা জানান, এসব খরচ মূলত ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ধার্য।

ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে না জানিয়ে বাড়তি চার্জ আরোপ করা অনৈতিক। তারা বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়ম বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি উঠছে সাধারণ নাগরিকদের পক্ষ থেকে। নইলে ‘ডিজিটাল সুবিধা’র নামে এই মিটার সাধারণ মানুষের জন্য বড় এক ঝামেলায় পরিণত হতে পারে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

আরও খবর:

Sponsered content