admin ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও তার ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো দৃশ্যমান কার্যক্রম থেকে প্রায় উধাও হয়ে যায়। দলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা আত্মগোপনে চলে যান বা দেশের বাইরে পাড়ি জমান। অনেকে গ্রেপ্তার হন। ফলে কার্যত গত বছরের শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ স্থবির।

কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকে ভিন্ন চিত্র সামনে আসতে শুরু করে। ‘ঝটিকা মিছিল’ নামে এক নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে দলটির কর্মীরা। হঠাৎ করেই ছোট ছোট দলে জড়ো হয়ে তারা রাস্তায় নেমে আসছে, মুহূর্তের মধ্যে স্লোগান দিচ্ছে এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে। শুরুতে সীমিত পরিসরে হলেও বর্তমানে শতশত নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এসব মিছিল আয়োজন করা হচ্ছে। দিনের আলোতে প্রকাশ্যে চলা এসব কর্মসূচি নিয়ে জনমনে এবং রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র আলোচনা।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা বনাম বাস্তব চিত্র
গত বছরের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্য দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর আদালতের রায়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলে অনেকের ধারণা ছিল, অন্তত এক যুগ দলটি রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকবে না। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো দৃশ্যই এখন প্রতিদিন চোখে পড়ছে।
প্রশ্নের মুখে প্রশাসন
প্রায় প্রতিদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের খবর মিলছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কি আগাম এসব তথ্য পাচ্ছে না?
পুলিশ কেন সময়মতো হস্তক্ষেপ করতে পারছে না?
নাকি প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবেই এসব কর্মকাণ্ড হতে দিচ্ছে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এ ধরনের সহনশীলতা সরকারের কৌশলের অংশ হতে পারে। কারণ, সম্পূর্ণভাবে দলটিকে দমন করলে রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার অনেকে এটিকে প্রশাসনের অক্ষমতা বা গোয়েন্দা দুর্বলতা হিসেবেও দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দেশের সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলার কারণেই হয়তো বা এই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। অথবা কোন একটি বড় রাজনৈতিক দল এই নিষিদ্ধ দলটিকে নতুন করে জাগ্রত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ঝটিকা মিছিল এখন আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। জনমনে প্রশ্ন জাগছে—এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে খুব শিগগিরই কি তারা আরও বড় আকারে রাজনীতির মাঠে ফিরে আসবে? নাকি এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার পূর্বাভাস?











