admin ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
মাহবুবুজ্জামান সেতু : নওগাঁ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইঞ্জিঃ মোহাম্মদ সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠান ও এর অধ্যক্ষের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য একটি অপচেষ্টা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অধ্যক্ষের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটিতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরই একটি স্বার্থান্বেষী মহল এসব অভিযোগ তোলে।

সম্প্রতি কালবেলা নামক একটি পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন দেখে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগসহ একাধিক অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে দাবি করা হয়, অধ্যক্ষ সোহবার হোসেন শিক্ষার্থীদের অনৈতিকভাবে মোবাইল ব্যবহার করতে সহায়তা করেছেন এবং বিভিন্ন ফি বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছেন।
তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোহবার হোসেন বলেন, “প্রকাশিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে এসব ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
পরীক্ষার সময় মোবাইল ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“যেসব ভিডিওর কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর সত্যতা বা প্রেক্ষাপট নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হয়নি এবং ভিডিওটি চলতি বছরের জুন- জুলাই মাসের ভিডিও বলে দাবি করা হলেও দেখা যায় শিক্ষার্থীরা শীতের পোশাক পরিহিত, তাই এটি অনেক আগের ভিডিও বলে শিক্ষার্থীরা মনে করে। বোর্ড-নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষাগুলোর সার্বিক তদারকি বোর্ড প্রতিনিধি ও কেন্দ্রসচিবের অধীনে সম্পন্ন হয়। সেখানে অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকে না। আর পরীক্ষার হলে যদি কেউ অসদুপায় অবলম্বন করার চেষ্টা করে তাহলে তা প্রতিরোধ করা বা না করা কোন ভাবেই অধ্যক্ষের দ্বায়িত্বের মধ্যে পড়ে না, এটি দ্বায়িত্বরত হল সুপার ও কক্ষ পরিদর্শীগণের কর্তব্য। উপরন্তু যদি কোনো অনিয়ম ঘটে থাকে, সেটি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা উচিত।”
অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “বিভিন্ন ফি বোর্ড নির্ধারিত নিয়ম ও নোটিশ অনুযায়ী আদায় করা হয়েছে। পূর্ববর্তী কিছু অনিয়ম চিহ্নিত করে সেগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ করেছে বা করাতে প্ররোচিত হয়েছে।
অধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, “শিক্ষার্থীদের নামে বস্ত্র অধিদপ্তর, ঢাকায় যে অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে, সেটিতে অনেকের নাম ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে।
লাইব্রেরি ও ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কোনো লাইব্রেরি থেকে বই ও ব্যবহারিক খাতা কেনার জন্য বাধ্য করা হয়নি। ব্যবহারিক নম্বর নির্ধারিত নিয়মে প্রদান করা হয়, সেখানে কোন প্রকার অর্থ লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি আরও জানান, জনবল সংকটের কারণে তিনি অস্থায়ীভাবে রেজিস্ট্রেশন দায়িত্ব পালন করছেন, তবে এতে কোনো অনিয়ম হয়নি।
নওগাঁ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর। আমরা চাই, সরকারিভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক সেটা আমরা স্বাগত জানাই।
এবিষয়ে জানতে বস্ত্র অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।











