অপরাধ

মিরপুরের ৩ থানায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা, জনমনে আতঙ্ক

  admin ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ৫:২০ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রান্ত পারভেজ : ঢাকার মিরপুর এলাকার জনপদে ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিরপুরের পল্লবী, রূপনগর ও কাফরুল থানা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের তিনটি প্যাড ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার পর এমন আকস্মিক কমিটি গঠনের খবরে সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

​গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা নিজেদের আইডি থেকে নতুন এই কমিটিগুলোর তালিকা শেয়ার করতে শুরু করেন। ছড়িয়ে পড়া প্যাডগুলোতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম পদ উল্লেখ করে পল্লবী, রূপনগর ও কাফরুল থানা শাখার দায়িত্ব অর্পণ করার দাবি করা হয়েছে। যেখানে পুরো সংগঠনটিই বর্তমানে নিষিদ্ধ, সেখানে কীভাবে এমন প্রকাশ্য তৎপরতা চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বাসিন্দাদের মাঝে বিরাজ করছে আতঙ্ক

​মিরপুর ও পল্লবী এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয়দের মতে, গত কয়েক বছরে এই এলাকায় ছাত্রলীগের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের স্মৃতি এখনো মানুষের মনে টাটকা। নতুন করে কমিটি গঠনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সংগঠনটি আবার গোপনে বা প্রকাশ্যে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছে কি না।

​এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নিষিদ্ধ হওয়ার পর তারা কীভাবে কমিটি দেয়? আমরা ভেবেছিলাম শান্তিতে থাকব, কিন্তু এসব খবর শুনে আবার ভয় লাগছে।

​সাধারণ মানুষের মূল দুশ্চিন্তার জায়গাটি হলো—কমিটিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের অনেকেই বিগত বছরগুলোতে এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৭ বছরের সেই পুরনো চেহারা” অর্থাৎ সেই বিতর্কিত ব্যক্তিদেরই পুনরায় নেতৃত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর ভয়, এরা পুনরায় সক্রিয় হলে এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং রাজনৈতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

আবার এ সকল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এর নেতাকর্মীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষকেও দিচ্ছে হুমকিধানকি। মাঝেমধ্যে জনসম্মুখে এসে মহড়াও দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এসব বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

​নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে কোনো ধরনের তৎপরতা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ধরনের কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না এবং এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা এসব প্রচার করছে, তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন।

​বিশেষজ্ঞদের মতে: যখন কোনো সংগঠন রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়, তখন তার নামে যে কোনো কর্মকাণ্ড চালানো রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া সাধারণ মানুষের এই আতঙ্ক দূর করা সম্ভব নয়।

আরও খবর:

Sponsered content