অপরাধ

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা: দেশজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা

  admin ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রান্ত পারভেজ : ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, সম্প্রতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তৎপরতা নতুন করে দেশজুড়ে উত্তেজনা তৈরি করছে। ভারতের নির্বাসিত শেখ হাসিনা এবং বিদেশে পলাতক প্রভাবশালী মন্ত্রী ও এমপিদের নির্দেশে দেশে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আবারো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, কার্যরত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ তাদের জঙ্গি চরিত্রের প্রমাণ দিচ্ছে, এবং দেশকে নতুন করে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের মতে, আওয়ামী লীগের এই কর্মকাণ্ডের মূল হোতা হলেন ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। এবং দেশে এখনো দিব্যি ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অর্থেই এই কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা।

বিদেশেও আওয়ামী লীগের অস্থিরতা :

​শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি আমেরিকায় এনসিপির নেতাদের ওপর ডিম নিক্ষেপ করার ঘটনায় যুবলীগ নেতা মিজান গ্রেপ্তার হন। যদিও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান, এই ঘটনা বিদেশেও আওয়ামী লীগের উগ্র মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে বিবেচিত হচ্ছে। এ সকল নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উগ্রতার কারণে বিশ্বের সকল দেশে থাকা বাংলাদেশী প্রবাসীরা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আগামীতে এসকল প্রবাসীদের ভাগ্যে নেমে আসতে পারে কাল আঁধার।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়োজনীয়তা ও গণগ্রেপ্তারের দাবি :

​সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশকে এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা আওয়ামী লীগের ছোট-বড় সকল নেতাকর্মীদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করার দাবি উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব নেতাকর্মীরা এখনো প্রকাশ্যেই ঘোরাফেরা করছেন এবং তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের অর্থ দিয়ে দলকে অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে মদদ দিচ্ছেন।

​জনগণ ও বিরোধী দলীয় নেতারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের এই তৎপরতা বন্ধ না হলে দেশের পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে আরও খারাপ হতে পারে। দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিষিদ্ধ এই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সকল কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা এবং তাদের আর্থিক উৎসগুলো বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

​এই বিষয়ে ধীরে ধীরে কঠোর হতে দেখা যাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে। এ সকল ছুটিকে মিছিল দেখে এখন অতিষ্ট হয়ে সাধারণ মানুষও এই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ছুটি কেন মিছিল থেকে নেতাকর্মীদের ধরে পুলিশে তুলে দিচ্ছেন। এই নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের তৎপরতা থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষায় গোয়েন্দারা নজর দাড়ির কোন বিকল্প নেই। এছাড়াও এসে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও আরো সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় আওয়ামী লীগের দোসরদের চিহ্নিত করে প্রশাসনের হাতে তুলে দিলেও কমে আসবে এ ধরনের নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা। তবে, পরিস্থিতি যেভাবে উত্তপ্ত হচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো পদক্ষেপ আশা করা যায়।

আরও খবর:

Sponsered content