আইন-আদালত

ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ১: সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের সাফল্য

  admin ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৭:০৯ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ জেলায় সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ দ্রুত সমাধান ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে জেলাব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারাবাহিকভাবে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে জেলার পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার)–এর নির্দেশনায় সম্প্রতি একটি ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য মাত্র আট ঘন্টার মধ্যে উন্মোচিত হয়।

৭ ডিসেম্বর সকালে সদর থানার নলিচাপাড়া এলাকায় ধানক্ষেতের পশ্চিম পাশে কলাগাছের নিচে কলাপাতার আড়ালে লুকিয়ে রাখা এক নারীর মরদেহ দেখতে পান এলাকাবাসী। খবর পেয়ে থানার পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পিবিআই সিরাজগঞ্জের সহায়তায় মৃত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়—মরিয়ম বেগম (৪৮), স্বামী মৃত নুর ইসলাম, ঠিকানা: খোকসাবাড়ী হাসপাতালের পাশে, থানা ও জেলা—সিরাজগঞ্জ। সুরতহাল শেষে তার মরদেহ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ হাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোঃ নাজরান রউফের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তৎপরতা ও টিমের নিরলস প্রচেষ্টায় অল্প সময়েই ঘটনার সূত্র মিলতে শুরু করে।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে একজন অটোচালক মোঃ সোহেল রানা (৩৫), পিতা মোঃ আসাদুল্লাহ্, সাং—গুনেরগাঁতী, সদর থানা—হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, প্রায় দুই-তিন বছর আগে সাইটে কাজ করার সময় তার সঙ্গে মরিয়মের পরিচয় হয় এবং তাদের মাঝে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সোহেল তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলেও মরিয়ম সময় চাইতে থাকে এবং অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। এতে সোহেল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

ঘটনার দিন ৫ ডিসেম্বর মাগরিবের পর তারা কুশাহাটা এলাকায় দেখা করে এবং পরে ঘটনাস্থলে যায়। শারীরিক সম্পর্কের পর আবার বিয়ের প্রসঙ্গ তুললে দু’জনের মধ্যে তর্ক বাধে। এক পর্যায়ে সোহেল ওড়না পেঁচিয়ে মরিয়মকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং মরদেহ কলাগাছের নিচে রেখে পালিয়ে যায়।

গ্রেফতার হওয়ার পর সে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়া চলমান।

আরও খবর:

Sponsered content