admin ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১:৫২ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : বাজারে গিয়ে আমরা প্রায় সবাই খুঁজি ধবধবে সাদা, সরু আর লম্বা চাল। বিক্রেতারা সানন্দে আমাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন ‘মিনিকেট’ নামের এক আকর্ষণীয় চাল। কিন্তু আঁতকে ওঠার মতো তথ্য হলো—কৃষিবিদ ও গবেষকদের মতে, বাংলাদেশে ‘মিনিকেট’ নামে কোনো ধানের অস্তিত্বই নেই। তাহলে যে চাল আমরা খাচ্ছি, তা আসছে কোথা থেকে?

জনতার আলোর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাধারণ মোটা চালকে আধুনিক মেশিনে ঘষে-মেজে সরু ও চকচকে করে বাজারজাত করা হচ্ছে ‘মিনিকেট’ নামে।
যেভাবে তৈরি হচ্ছে এই ‘নকল’ চাল
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মিল মালিকরা মূলত বিআর-২৮, বিআর-২৯ এবং গুটি স্বর্ণার মতো সস্তা ও মোটা জাতের ধান সংগ্রহ করেন। এরপর অটো রাইস মিলে কয়েকটি ধাপে চলে
কারসাজি:
অতিরিক্ত পলিশিং: অটো রাইস মিলের বিশেষ মেশিনে মোটা চালের ওপরের অংশ ছেঁটে ফেলা হয়। এতে চাল সরু আকার ধারণ করে।
পুষ্টিগুণ বিসর্জন: চালের উপরিভাগের যে স্তরে মূল ভিটামিন ও প্রোটিন থাকে, পলিশ করার সময় তা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। আমরা যা খাচ্ছি তা মূলত কেবল কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা।
রাসায়নিকের ব্যবহার: চালকে অতিরিক্ত সাদা ও চকচকে করতে অনেক সময় ক্ষতিকারক হোয়াইটেনিং এজেন্ট বা পাউডার ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
নামের উৎপত্তি নিয়ে বিভ্রান্তি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৯৫ সালের দিকে ভারত থেকে ‘শতব্দি’ জাতের ধানের বীজ মিনি কিট (Mini Kit) বা ছোট প্যাকেটে করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছিল। সেখান থেকেই অপভ্রংশ হয়ে ‘মিনিকেট’ নামের প্রচলন হয়। অথচ বর্তমান বাজারে যে চাল বিক্রি হচ্ছে, তার সঙ্গে সেই জাতের কোনো মিল নেই।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞ মত
পুষ্টিবিদদের মতে, এই অতি-মসৃণ চাল খাওয়ার ফলে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিতে পারে। চালের ওপরের আবরণ (ব্র্যান) ছেঁটে ফেলায় এতে ফাইবার বা আঁশ থাকে না, যা হজমপ্রক্রিয়া ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
একজন কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “ভোক্তারা কেবল সুন্দরের পেছনে ছুটছেন বলেই মিল মালিকরা এই প্রতারণার সুযোগ নিচ্ছেন। মানুষ যদি লাল চাল বা স্বাভাবিক মোটা চালের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতন হতো, তবে এই তথাকথিত মিনিকেট বাজার থেকে হারিয়ে যেত।
প্রয়োজন কঠোর নজরদারি
মিনিকেট নামের এই প্রতারণা বন্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। চালের বস্তার গায়ে ধানের আসল জাতের নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি।
সচেতনতা বার্তা: আপনার কেনা চাল কি অতিমাত্রায় সাদা আর পিচ্ছিল? মনে রাখবেন, চাল যত বেশি সাদা ও চকচকে হবে, তার পুষ্টিগুণ তত কম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

















