অপরাধ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আবারো সাংবাদিক অপহরণ চক্রের চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চুপ!

  admin ২৬ আগস্ট ২০২৫ , ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

কাজী আশরাফুল হাসান : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সাংবাদিক রুবেল তালুকদার অপহরণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, ফের একই চক্রের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এবার তাদেত নিশানায় পড়েছেন এক গাড়ি ব্যবসায়ী। অভিযোগ, রায়গঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয়দানকারী বিপ্লব কুমার ঘোষের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সদস্যরা, বৃহস্পতিবার ২১/৮/২০২৫ আগস্ট গভীর রাতে কালিঞ্জা ব্রিজ এলাকায় ওই ব্যবসায়ীর পথরোধ করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে তার সবগুলো গাড়ি পুড়িয়ে দিবেন বলেও তাকে ভয়-ভীতি দেখান ওই সন্ত্রাসীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, ওইদিনের ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে, কালিন্দা গ্রামের চান খাঁর ছেলে শাকিল ও হেদুসহ অজ্ঞাত বেশ কয়েকজন। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ছিনতাই ও চাঁদা দাবি কালে বিপ্লব উপস্থিত না থাকলেও, তারা সকলেই বিপ্লব ঘোষের ঘনিষ্ঠ ও “বিপ্লব গ্যাং” চক্রের সক্রিয় সদস্য।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাধিক জন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাতে রায়গঞ্জের কালিজ্ঞা ব্রিজ পার হওয়ার সময় তারা বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য করেন। চাঁদা না দিলে হুমকি, গাড়ি আটক, এমনকি মারধরের শিকার হতে হয়।

সাংবাদিক অপহরণ মামলার পরও অপকর্মে সক্রিয় ‘বিপ্লব গ্যাং’

গত সপ্তাহে সাংবাদিক রুবেল তালুকদারকে অপহরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল হয়। সেখানে শোনা যায় বিপ্লব ও তার চক্রের কন্ঠ। অপহরণের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিপ্লব ঘোষ ও ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা মুন্না সরকারের নাম উঠে আসে। ঘটনার পর তারা দু’জনই দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার, তাদের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সদস্যরাও এখনও সক্রিয় এবং প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

এছাড়াও, গত সোমবার ১৮ আগস্ট সকালে ভদ্রঘাত ইউনিয়নের খানপাড়ার আব্দুল মমিন খানকে মারার জন্য হন্য হয়ে খুঁজেন মুন্না সরকার গ্যাং এর অন্যতম সক্রিয় সন্ত্রাসী বিপ্লব কুমার ঘোষ, হেদুসহ আরো কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। এ বিষয়টি নিয়েও মমিনের পরিবার ব্যাপক প্রাণনাশের আশঙ্কায় রয়েছে। কারণ এ সকল সন্ত্রাসীরা মব তৈরি করে যে কোন সময় যে কাউকে মেরে ফেলতেও দ্বিধা করে না। তাই মমিনের পরিবারটি এই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচার আকুতি জানান।

প্রশ্ন উঠেছে, একাধিক অভিযোগ, গণমাধ্যমে প্রতিবেদন ও সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার পরও কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না?

https://www.facebook.com/share/v/16qGCAfY2q/https://www.facebook.com/share/v/16qGCAfY2q/

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতায় জনমনে ক্ষোভ

ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করলেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তারা শঙ্কিত যে, এই চক্রের বিরুদ্ধে মুখ খুললে জীবনের ঝুঁকি বাড়বে। অনেকের ধারণা, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই গ্যাং এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠছে, হয়তো প্রশাসনও নিরুপায় হয়ে পড়ছে কি না তাও এখন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, মুন্না সরকারের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিপ্লব ঘোষ ও যুবদল নেতা মিজানুরের বিরুদ্ধে এখনো সাংগঠনিক কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে শুধু সংগঠনেরই বদনাম হচ্ছে না, বরং বিভ্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষও।

জনগণের প্রশ্ন, প্রশাসনের ভূমিকা কি নিরপেক্ষ?

সংশ্লিষ্ট মহলে এখন বড় প্রশ্ন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি চক্রটিকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে দিচ্ছে? স্থানীয় জনগণ ও সাংবাদিক মহলে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। একজন স্থানীয় সাংবাদিক বলেন, “প্রমাণ, তথ্য, এবং গণমাধ্যমে প্রতিবেদন থাকার পরও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ। আজ যদি একজন সাংবাদিক অপহরণ বা হেনস্তার শিকার হন, পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা তাদের বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

এসব বিষয়ে, রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বিষয়ে ফোনে জানতে চাইলে, এতদিন ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয় তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। এছাড়াও, এ সকল বিষয়ে তাকে অবগত করলে তিনি কিছুটা হাস্য রহস্যে উড়িয়ে দেন। এমনকি সাংবাদিকরা ঢাকা বসে এই বাহিনীর অস্তিত্ব পেয়েছে এটাও তিনি অবিশ্বাস করে হেও প্রতিপন্ন করেন, এবং ফোন কেটে দেন। একজন থানার ওসির এমন আচরণ কিসের ইঙ্গিত দেয়?

মানুষের চূড়ান্ত দাবি: অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার

স্থানীয় সচেতন মহল, সাংবাদিক সমাজ এবং মানবাধিকারকর্মীরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন—
১. সাংবাদিক রুবেল তালুকদার অপহরণ ও পরবর্তী চাঁদাবাজি ঘটনার পূর্ণ তদন্ত।
২. অভিযুক্ত মুন্না সরকার, বিপ্লব ঘোষ ও তাদের সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার।
৩. কালিঞ্জা ব্রিজ এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল এবং নিরাপত্তা জোরদার।
৪. সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ।

যদি অবিলম্বে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এলাকাবাসী ও সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।

ভদ্রঘাটের মুন্না সরকার ও কালিঞ্জার বিপ্লব ঘোষ গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এখনি পদক্ষেপ না নিলে, এলাকায় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি কর্মকান্ড আরো দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। চাঁদা না দেওয়াই হতে পারে ঢাকার মিটফোর্ডের সোহাগ হত্যার মতো ঘটনা। তাই এইসব এলাকার শান্তি ফিরিয়ে আনতে দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

আরও খবর:

Sponsered content