অপরাধ

রাজধানীর পল্লবীতে পরিত্যক্ত মুরগীর খোয়ার থেকে দেশীও পিস্তল উদ্ধার

  admin ১১ আগস্ট ২০২৫ , ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রান্ত পারভেজ : রাজধানীর পল্লবীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি দেশীয় পিস্তল উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শনিবার (১০ আগস্ট) রাতে ডিবি মিরপুর বিভাগের এডিসি (অ্যাডমিন) সোনাহার আলীর নেতৃত্বে মিরপুর- ১১ এর এভিনিউ-৫ এলাকার ১৭ নম্বর লাইনে এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে অংশ নেয় ডিবি পুলিশ। এ সময় পরিত্যক্ত একটি মুরগীর খোয়ারের ভেতর থেকে কালো কাপড়ে মোড়ানো একটি দেশীও পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে, এডিসি সোনাহার আলীর সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জনতার আলোকে বলেন, “পরিত্যক্ত খোয়ার থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার হয়েছে । তাই, ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা হয়নি। তবে, এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ধারণা, সন্ত্রাসী বা অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতেই অস্ত্রটি সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল।এছাড়াও গত ৪ আগস্ট জনতার আলো’তে একটি সংবাদ প্রচারিত হয় যার শিরোনাম ছিল, ”পল্লবীতে ফের সন্ত্রাসের রাজত্ব, প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে অস্ত্রের মহড়া”। এরপরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

 

সংবাদটিতে আরও বলা হয়,

দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হওয়ার পর সাধারণ মানুষ একটু স্বস্তি পাবে, এটাই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। রাজধানীর পল্লবী এলাকা যেন আবারও পরিণত হয়েছে সন্ত্রাসীদের অবাধ বিচরণের স্বর্গরাজ্যে। প্রতিদিন ঘটছে গোলাগুলি, জমি দখলের চেষ্টা, ককটেল বিস্ফোরণ ও প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আর এই সবকিছুর মাঝেও প্রশাসনের নীরবতা এলাকাবাসীকে করেছে আতঙ্কিত, সন্দিহান ও হতাশ।

প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসীরা :

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লবীর একাধিক এলাকায় গত কয়েকদিনে নিয়মিত রাতে অজ্ঞাত অস্ত্রধারীদের চলাফেরা দেখা যায়। বস্তি ও নিম্নবিত্ত এলাকার বেশ কিছু পয়েন্টে চলছে “ডন” নামধারী চাঁদাবাজদের রাজত্ব। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,যেকোনো দোকান খুললেই মাসোহারা দিতে হয়। না দিলে রাতে দোকান ভেঙে ফেলা বা পরিবারের ওপর হামলার হুমকি আসে। এছাড়াও, জমি দখলের নাম করে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। চলতি সপ্তাহে পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বিস্ময়করভাবে এসব ঘটনার পরেও মূল হোতারা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। পল্লবীর কোন কোন এলাকায় আবার সন্ত্রাসী দুই গ্রুপের মধ্যেও চলে গোলাগুলির ঘটনা। প্রশাসনের নীরবতার কারণেই পল্লবীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি গ্যাং। এ সকল গ্যাং এর নামগুলো আবার খুবই ভয়ংকর। অনেক গ্যাং এর আবার সকলের কাছে সুপরিচিত। আর আতঙ্কের কারণ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতা :

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এসব ঘটনার অধিকাংশই ঘটছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। অনেকেই বলছেন, পুলিশ সন্ত্রাসীদের না ধরে বরং তাদের কাছ থেকেই তথ্য নিয়ে আসামি না ধরে টহল বাড়ানো আর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নামে নাটক করে যাচ্ছে। এতে করে আরোও উৎসাহিত হচ্ছে সন্ত্রাসীরা। আবার ঘটনার পর চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশাসনের সামনেই ঘটনার বিবরণী শুনছে। প্রশাসন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামি না ধরে, এখনো নামধারী সোর্স দের দেয়া পরামর্শে সন্ত্রাসী দমনের চেষ্টা করছে। আর এতে করেই বাড়ছে সমাজে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্সের দায়িত্বে থাকা পাড়া মহল্লার এসব যুবকরাও সন্ত্রাসীদের একটি অংশ। আর এদের তথ্যের ভিত্তিতে আসামি ধরাটা এক ধরনের প্রহসন।

পল্লবীর একজন সমাজসেবক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন,“যাদের প্রশাসনের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার কথা, তারা থানার সামনের চা দোকানে চা খায়, আর থানার ভিতরে পুলিশ আর অন্যান্য বাহিনীর সামনেই ঘোরাঘুরি করে, অথচ তারা দেখেও দেখে না। আবার ৫ আগস্টের পর স্বৈরাচার হাসিনার রাজনৈতিক অনেক নেতা ও ছাত্র জনতা হত্যা মামলার আসামিরাও এখন বনে গেছে তথাকথিত পুলিশের সোর্স।

আতঙ্কে সাধারণ মানুষ :

পল্লবী এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকট। স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মাহমুদুল হাসান বলেন, “শিক্ষার্থীরা রাত ৮টার পরে আর কোচিং সেন্টার থেকে বের হতে সাহস পায় না। এমন অবস্থায় কি করে প্রজন্ম গড়ে উঠবে?”

সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি :

জনগণের ভাষ্য, বর্তমান সরকার যদি সত্যিই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, তবে পল্লবীসহ রাজধানীর সব সন্ত্রাসঘেঁষা এলাকায় চিরুনি অভিযান চালানো এখন সময়ের দাবি। শুধু চাঁদাবাজ আর অস্ত্রধারীদের ছবি তুলে রিপোর্ট বানালেই হবে না, লাগবে আইনের কার্যকর প্রয়োগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

এলাকাবাসীর একটাই দাবি, পল্লবীকে সন্ত্রাসমুক্ত করা হোক।

আরও খবর:

Sponsered content