অপরাধ

মান্দায় দফাদার-মহাল্লাদার নিয়োগে অসঙ্গতির অভিযোগ

  admin ১৮ নভেম্বর ২০২৫ , ৩:৪৩ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

মাহবুবুজ্জামান সেতু : নওগাঁর মান্দা উপজেলায় গ্রাম পুলিশ (দফাদার-মহাল্লাদার) নিয়োগকে ঘিরে অসঙ্গতি, নোটিশ বিভ্রাট ও স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে গত ১৫ নভেম্বর প্রকাশিত সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশের পর বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিয়োগ–সংক্রান্ত নথি, আবেদনকারীদের বক্তব্য এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নোটিশে একাধিক ভুল, ওয়ার্ড নম্বরের অনুপস্থিতি, পরীক্ষার সময়সূচিতে অসামঞ্জস্য এবং মেধাক্রম বা নম্বর প্রকাশ না করা। এসব কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

আবেদনকারীদের একটি বড় অংশ দাবি করেছেন, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার নোটিশ সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। অনেকেই পরীক্ষার খবর পেয়েছেন শেষ মুহূর্তে। কেউ কেউ জানিয়েছেন নোটিশে উল্লেখিত সময় এবং বাস্তব পরীক্ষার সময়ের মধ্যে পার্থক্য ছিল।

এক বাদ পড়া প্রার্থী বলেন,“নোটিশ পেলাম পরীক্ষার আগের দিন। এমনিতে প্রতিযোগিতা কঠিন, তার ওপর সময় না পেলে ন্যায্য প্রতিযোগিতা কীভাবে হবে?”

নিয়োগবিধি অনুযায়ী গ্রাম পুলিশের পদ ওয়ার্ড ভিত্তিক হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু সুপারিশপ্রাপ্ত তালিকায় মান্দা ইউনিয়নের একটি দফাদার পদের ওয়ার্ড নম্বর উল্লেখ নেই।
স্থানীয়দের যুক্তি,“কোন ওয়ার্ডের জন্য পদটি ছিল এটা যদি নোটিশে না থাকে, তাহলে ওই পদ কীভাবে শূন্য হলো?”
প্রশাসনের নথিপত্রে এমন ভুলকে অনেকেই অবহেলা নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অস্পষ্টতা হিসেবে দেখছেন।

গ্রাম পুলিশ নিয়োগবিধি–২০১৫ অনুযায়ী শারীরিক সক্ষমতা, মৌখিক পরীক্ষা, নথি যাচাই এসব ধাপ বাধ্যতামূলক। কিন্তু কোন ধাপ কখন হলো, কে কত নম্বর পেয়েছে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এক প্রার্থী বলেন,“নাম প্রকাশ হলো, কিন্তু নম্বর প্রকাশ হলো না। এটা কেমন পরীক্ষা? মেধাক্রম প্রকাশ না করলে নিয়োগ কতটা স্বচ্ছ বোঝা যায় না।

উপজেলা প্রশাসনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন, ২ নং ভালাইন ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে মহল্লাদার পদে চকশীবরামপুর গ্রামের আখতারু হোসেনের ছেলে নুরুজ্জামান, ৬ নং মৈনম ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে মহল্লাদার পদে মৈনম গ্রামের আয়েজ উদ্দিন মোল্যার ছেলে বেলাল হোসেন,৭ নং প্রসাদপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে মহল্লাদার পদে খুদিয়াডাঙ্গা গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে রিয়াজুল,৯ নং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে মহল্লাদার পদে চৌজা গ্রামের ফজলু হকের ছেলে তুষার হোসেন,১০ নং নূরুল্যাবাদ ইউনিয়নে দফাদার পদে চকউমেদ গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে আসাদুল ইসলাম,১৩ নং কশব ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে মহল্লাদার পদে শিয়াটা গ্রামের আয়ুবের ছেলে আব্দুল্ল্যা-আল-মামুন, ৫ নং ওয়ার্ডে কশব গ্রামের খয়বর আলীর ছেলে রাইট হোসেন, ৭ নং ওয়ার্ডে তেগাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে সাগর হোসেন,১৪ নং বিষ্ণপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে মহল্লাদার পদে মালেকা বেগম গ্রামের নওসাদ আলীর ছেলে মাসুদ রানা, ৬ নং ওয়ার্ডে কয়লাবাড়ী গ্রামের ওসমান গণির ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক,৪ নং মান্দা ইউনিয়নের (ওয়ার্ড উল্লেখ নেই) দফাদার পদে দোসতি গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের মন্ডলের ছেলে আব্দুর রহমান।

ওয়ার্ড নম্বর–বিহীন একটি দফাদার পদ এবং গ্রামের নাম মালেকা বেগম উল্লেখিত নাম নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, নিয়োগের জন্য মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণের গুঞ্জনও উঠেছে।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নিয়োগ বাছাই কমিটির সভাপতি আখতার জাহান সাথী বলেন,“নিয়োগবিধি অনুসরণ করেই সব প্রক্রিয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।”
তিনি জানান, মোট ৪৫ জন আবেদন করেছিলেন, যার মধ্যে তিনটি ক্রটিপূর্ণ আবেদন বাতিল হয়েছে। ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পদ্মা ও মেঘনা দুই সেটে দুইটি রুমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

তবে আবেদনকারীদের মতে, প্রশাসন সত্যিই স্বচ্ছতা দেখাতে চাইলে মেধাক্রম, পরীক্ষার নম্বর ও পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ করা উচিত ছিল।

অনেকে মনে করছেন, নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ বাড়তে থাকলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

স্থানীয়দের দাবি যে,“নিয়োগ স্বচ্ছ হয়ে থাকলে প্রমাণ দিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর সমস্যা হলে বুঝতে হবে, কোথাও না কোথাও অসঙ্গতি ছিল।

এর আগে শারীরিক পরীক্ষা এবং পরে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ প্রদান করা হবে। তবে অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রমাণ মিললে নিয়োগ বাতিল করা হবে।

উক্ত নিয়োগ বাছাই কমিটির সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আখতার জাহান সাথী, সদস্য সচিব হিসেবে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা হাফজা খাতুন ইলা, সদস্য হিসেবে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু রায়হান আশেকীন, সদস্য হিসেবে উপজেলা প্রোকৌশলী আবু সায়েদ এবং স্ব-স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর:

Sponsered content